---Advertisement---

সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রথম প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার, জারি হল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা।

By Suman Debnath

July 16, 2026 12:40 PM

সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রথম প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার, জারি হল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা।

---Advertisement---


রাজ্যের সপ্তম পে কমিশন গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল সরকার। অর্থ দফতরের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরকে বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত প্রস্তাব পরবর্তী বেতন কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির পর সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের মতে, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের নির্দেশ অনুসারে জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ভবিষ্যৎ বেতন কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবগুলি প্রস্তুত রাখতে হবে। অর্থ দফতরের গ্রুপ-পি১ শাখার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন পে কমিশন গঠনের আগে বিভিন্ন দফতরের কাছ থেকে বেতন, ভাতা ও পরিষেবা সংক্রান্ত প্রস্তাব সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হওয়ার পর এই সুপারিশগুলির ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:  চাকরি বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তারি এড়াতে হাউকোর্টে মানস ভুঁইয়া, শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ প্রাক্তন মন্ত্রীর

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ জুলাই জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারির পাঠানো চিঠিতে অর্থ দফতরের পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রস্তাব ভবিষ্যতের বেতন কমিশনের কাছেই জমা দিতে হবে। কমিশন গঠনের পরেই সেগুলি বিবেচনা করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে সপ্তম পে কমিশন এবং বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সরকারি কর্মচারীরা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেটেই ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়। এরপর সপ্তম পে কমিশন গঠনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম প্রশাসনিক ধাপ বলেই মনে করছে নবান্নের একাংশ।

তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া এক নয়। সিপিএম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরীর বক্তব্য, সরকার পে কমিশনের দিকে এগোলেও সমস্ত সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই কমিশন কার্যকর করা উচিত।

আরও পড়ুন:  ভিক্টোরিয়া হাউস থেকে পিছু হটল 'কালীঘাট' তৃণমূল, তারামণ্ডলে শহিদ দিবস পালনে আপত্তি নেই

অন্যদিকে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন, দফতরগুলির কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত পে কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি। তাঁর মতে, সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অবশ্য এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার বিরোধী দলে থাকাকালীন সরকারি কর্মীদের দাবিপূরণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা হতে পারে। এখন সরকারি কর্মীদের নজর থাকবে, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম পে কমিশন গঠন করে তা কার্যকর করা হয়।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment