‘আমরা তো তৃণমূল পার্টি অফিস সব ভেঙে দিতে পারতাম’, অতীত স্মরণ করিয়ে তোপ সুকান্তর

By Suman Debnath

September 19, 2026 2:05 PM

‘আমরা তো তৃণমূল পার্টি অফিস সব ভেঙে দিতে পারতাম’, অতীত স্মরণ করিয়ে তোপ সুকান্তর


ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ছিল রোজগার মেলা। সেখানেযই যোগ দিয়ে মমতাপন্থী তৃণমূল দলকে তুলোধনা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সামনেই রাজ্যের দুই আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে আগামী ৬ অক্টোবর আছে উপনির্বাচন। তার আগেই দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করা হল নন্দীগ্রাম থেকে। রেজিনগরেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত বলে নানা অভিযোগ আসছে। তার জন্য কি বিজেপি দায়ী? উঠছে প্রশ্ন। এবার এই বিষয়গুলি নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুকান্ত মজুমদার। সুকান্তবাবু অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি করেন, ইচ্ছা করলেই তাঁরা তৃণমূলের সমস্ত পার্টি অফিস ভেঙে বা পুড়িয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তাঁরা সেই সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন না।

আর হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না বলেই এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পার্টি অফিস খুলে বসছে। পথেঘাটে নিজেদের কর্মসূচি করতে পারছে। যদিও নন্দীগ্রাম থেকে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের প্রার্থীকে সমর্থন দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই পুরনো মামলা গ্রেপ্তার হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ রাহুল গান্ধীও। আর এই রোজগার মেলা অনুষ্ঠান থেকেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ইস্যুতে মুখ খোলেন মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

আরও পড়ুন:  জোড়াফুল ‘ফ্রিজ’, ফুটবলার বনাম খাম! দুই তৃণমূলের নতুন পরিচয়

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর উপনির্বাচনেও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে এই কেন্দ্র থেকে সরে যাওয়ার খবর চাউর হয়ে যায়। তৃণমূল প্রার্থী প্রত্যাহার করছে বলেই খবর সামনে আসে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর রবিউল আলম চৌধুরী জানিয়ে দেন, তিনি নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এখন ‘এক্সপায়ারি ডেট’ পার হয়ে গিয়েছে। অতীতে তৃণমূল যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন রাজ্য সভাপতি হিসেবে আমাকে এবং আমার দলের কর্মীদের সবথেকে বেশি ধমকানো-চমকানোর মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আমরা তো তৃণমূল পার্টি অফিস সব ভেঙে দিতে পারতাম। যেরকম উনি করেছিলেন। এমনকী একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ভবানীপুরে বিজেপির পার্টি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:  দমদম বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক - Dainik Statesman

তাছাড়া দুই উপনির্বাচনেই বিজেপি জয়ী হবে বলে আত্মবিশ্বাসী মত প্রকাশ করেন সুকান্তবাবু। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের তোপ, ‘মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে অনেক মামলা ছিল। তাই গ্রেপ্তার হয়েছে। আদালত দেখবে, জামিন পেয়ে যাবেন যদি সেরকম গুরুতর অভিযোগ না থাকে। এতদিন যখন কংগ্রেসের লোকেজনকে পেটাতো, বোমা মারত, তখন একবারও রাহুল গান্ধীর মুখ দিয়ে কোনও শব্দ বের হয়নি। এখন রাহুল গান্ধীর মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে। এতদিন তো চুপ করে শুনছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেম-লালিত বাণী।’

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment