দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় অবৈধ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পি.আর. বাড়ি থানা এবং রাঙ্গামুড়া আউটপোস্টের যৌথ অভিযানে দুটি মহিন্দ্রা বোলেরো গাড়ি আটক করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাপড় জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কাপড়ের সংখ্যা মোট ৮০টি বান্ডিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর আসে যে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাপড় পাচারের চেষ্টা চলছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পি.আর. বাড়ি থানা ও রাঙ্গামুড়া আউটপোস্টের পুলিশ। নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং সন্দেহভাজন যানবাহনের উপর বিশেষ নজর রাখা হয়।
অভিযানের সময় দুটি মহিন্দ্রা বোলেরো গাড়িকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। পরে গাড়ি দুটির তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কাপড়ের বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। মোট ৮০টি কাপড়ের বান্ডিল গাড়ি দুটিতে বহন করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। উদ্ধার হওয়া কাপড়গুলির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আটক গাড়ির চালকদের কাছে কাপড়গুলির বৈধতা সংক্রান্ত নথিপত্র, বিল, চালান বা পরিবহনের অনুমতিপত্র চাওয়া হলে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে কাপড়গুলির উৎস এবং গন্তব্য নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। প্রাথমিক তদন্তে এগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে পুলিশের ধারণা।
পুলিশ জানিয়েছে, চালকদের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় এবং বৈধ নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১০৬ ধারার আওতায় উদ্ধার হওয়া ৮০টি কাপড়ের বান্ডিল এবং ব্যবহৃত দুটি মহিন্দ্রা বোলেরো গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযান পাচার ও অবৈধ ব্যবসা রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় বড় ধরনের একটি অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যকলাপ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাচার, অবৈধ বাণিজ্য এবং আইনবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সকল ধরনের পাচার ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের “Zero Tolerance Policy” অব্যাহত থাকবে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অবৈধ পাচার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এলাকার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Leave a Comment