আগরতলা, ১৪ অক্টোবর: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদ পূরণে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ ঘিরে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বেকারদের ক্ষোভ। বছরের পর বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় চরম হতাশায় ভুগছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বুধবার ফায়ারম্যান নিয়োগ এবং STGT পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবিতে পথে নামলেন শত শত বেকার। কোথাও ডেপুটেশন, কোথাও বিক্ষোভ, আবার কোথাও কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল চাকরিপ্রার্থীদের। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ত্রিপুরা ফায়ার সার্ভিসে ফায়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগ তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, ২০২২ সাল থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন। প্রতিবারই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে শারীরিক পরীক্ষায় প্রায় ১,৮০০ জন উত্তীর্ণ হন। পরবর্তী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রায় ১,৭০০ জন। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রায় ১,৪০০ জন এবং মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করেন প্রায় ১,২০০ জন। এতগুলি ধাপ পেরিয়েও নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশায় ভুগছেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বারবার দপ্তরে গিয়ে আবেদন জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে করতে তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ক্ষোভ প্রকাশ করে চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, যতবার তাঁরা ডেপুটেশন দিতে এসেছেন, তার হিসাব রাখলে নাকি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য হয়ে যাবেন!
অন্যদিকে, STGT পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবিতে বুধবার শিক্ষা ভবনের সামনে জড়ো হন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালে পরীক্ষায় বসার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। অথচ, তাঁদের অভিযোগ, ২০২৫ সালে তৈরি হওয়া নতুন পদে নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই অফার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষায় বসে অন্যরা চাকরির সুযোগ পেলেও তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছে বলে দাবি পরীক্ষার্থীদের।
পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য, আইনি জটিলতার কথা বলে ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সরকার চাইলে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করতে পারে। কিন্তু আদালত তাঁদের নিয়োগ করা যাবে না, এমন নির্দেশ দিয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না।
পরীক্ষার্থীদের আরও দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর আদালতের তরফে ২৩০টি শূন্যপদের জন্য ফল প্রকাশের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। যদিও আদালতের নির্দেশের সঠিক পরিধি এবং সরকারের আইনি অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং বারবার আশ্বাসের পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার হতাশা বুধবার শিক্ষা ভবনের সামনে প্রকাশ্যে চলে আসে। একাধিক পরীক্ষার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
ফায়ারম্যান নিয়োগ থেকে শুরু করে STGT পরীক্ষার ফল প্রকাশ—একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যে বেকার আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরির অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে, আসন্ন পুর নিগম ও নগর নির্বাচনকে ঘিরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে এভাবে নিয়োগ আটকে থাকলে হাজার হাজার বেকারের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
রাজ্যে কর্মসংস্থান এবং সরকারি নিয়োগ নিয়ে যখন প্রত্যাশা বাড়ছে, তখন চাকরিপ্রার্থীদের এই ক্ষোভ সরকারের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। এখন দেখার, বেকারদের আন্দোলনের চাপে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং STGT পরীক্ষার ফল প্রকাশে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
Leave a Comment