ত্রিপুরায় নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি ও ব্যবহারে কড়া নির্দেশ, বাতিল লাইসেন্সের আবেদন

By Suman Debnath

October 14, 2026 9:37 AM

ত্রিপুরায় নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি ও ব্যবহারে কড়া নির্দেশ, বাতিল লাইসেন্সের আবেদন

আগরতলা, ১৪ অক্টোবর: আসন্ন দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজি বিক্রি, মজুত ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন। নিষিদ্ধ বাজি উৎপাদন, বিক্রি, মজুত কিংবা ব্যবহার করতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ড. বিশাল কুমার।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশিকার কথা জানানো হয়েছে। দুর্গাপুজো উপলক্ষে বাজি বিক্রি ও মজুতের অস্থায়ী লাইসেন্স বা অনুমতিপত্রের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ব্যক্তির কাছ থেকে জমা পড়া আবেদনগুলি রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের ৩০ অক্টোবর, ২০১৮-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  নাগাল্যান্ডে ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যয়, ধসে বন্ধ জাতীয় সড়ক-২, তিজু নদীর বন্যায় ভেসে গেল ধানক্ষেত

প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ত্রিপুরায় শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (PESO) অনুমোদিত উন্নত মানের কম দূষণকারী বাজি এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি উৎপাদন ও বিক্রির অনুমতি রয়েছে। নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে অন্য কোনও ধরনের বাজি উৎপাদন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মালার মতো জোড়া বাজি, অর্থাৎ সিরিজ বাজি বা লাড়ি বাজির উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই ধরনের বাজির কারণে বায়ু ও শব্দদূষণের পাশাপাশি কঠিন বর্জ্যের সমস্যাও তৈরি হয়।

নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি ও মজুতের লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র চেয়ে জমা পড়া সমস্ত আবেদন বাতিল বা খারিজ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। PESO অনুমোদিত কম দূষণকারী বাজি এবং সবুজ বাজি ছাড়া অন্য কোনও শ্রেণির বাজির জন্য লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন:  দুই দাবিতে সোনামুড়া SDPO-র কাছে DYFI-র ডেপুটেশন!

প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুধুমাত্র বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরাই নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুমোদিত বাজি বিক্রি ও মজুত করতে পারবেন। বাজির শব্দের মাত্রা পাঁচ মিটার দূরত্বে ৯০ ডেসিবেল (dB(A))-এর বেশি হওয়া চলবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ বাজি—বিশেষ করে মালা বা লাড়ি বাজি—উৎপাদন, বিক্রি, মজুত কিংবা ব্যবহার করতে গিয়ে কেউ ধরা পড়লে পরিবেশ সুরক্ষা আইন, ১৯৮৬ এবং বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আসন্ন দুর্গাপুজোকে দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment