সিপাহীজলা জেলার আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিল ত্রিপুরা সরকার। কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের উপর হামলা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালানসহ সমস্ত ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আগরতলার টিআইএফটি কনফারেন্স হলে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ মহানির্দেশক, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিএসএফের আইজি এবং সিআরপিএফ ও অসম রাইফেলসের পদস্থ আধিকারিকরা।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনা। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি এবং এখনও পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এফআইআরে নাম থাকা মোট ১৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনও অভিযুক্ত যাতে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু আশাবাড়ির ঘটনাই নয়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ দমনের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ অভিযান চালানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, প্রশাসন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে কোনও ধরনের আপস করা হবে না বলেও বৈঠক থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আশাবাড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা যে আরও বাড়ানো হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জোরদার হয় এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
Leave a Comment