আগরতলা, ১৭ সেপ্টেম্বর: নিয়োগ এবং শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টেট) নিয়ে দাবিদাওয়া জানিয়ে আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। রাজ্য সরকার বিষয়গুলির উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ পাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে অংশগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় দফার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কেন্দ্রের কাছ থেকে যে নির্দেশ আসবে, সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ করবে।
টেট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই টেট নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, টেট নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সরকার শুরু থেকেই বিষয়টির উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ পাবেন।
বর্তমান সরকারের আমলে ২১ থেকে ২২ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি কর্মরত কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রতিও সরকারের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) দেওয়ার বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হয়। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই সরকার বিভিন্ন দায়বদ্ধতা পূরণ করে চলেছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আর্থিকভাবে অনেকটাই কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। উল্লেখযোগ্য আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বিভিন্ন দায়বদ্ধতা পূরণ করে চলেছে। পাশাপাশি আউটসোর্সিং এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি হাইকোর্ট থেকে এসেছে। বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইন দপ্তরের প্রতিনিধিদের শুধুমাত্র নথি জমা না দিয়ে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি প্রসঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
রাজ্যস্তরে জেলা সদরগুলিতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে প্রায় ২০০ জন রক্তদান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সন্ধ্যা ৭টায় নির্দিষ্ট স্থানগুলিতে আশীর্বাদ কার্ড বিতরণের পাশাপাশি প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে অন্যান্য মেগা ইভেন্টগুলি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি ত্রিপুরার জনগণের আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা।
Leave a Comment