আগরতলা, ৩ জুন: সিপাহিজলা জেলার যাত্রাপুর থানার পুলিশের তৎপরতায় নিখোঁজ এক গৃহবধূকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার রাজারহাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন নির্ভয়পুর এলাকার বাসিন্দারা। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সফল হয়েছে এই উদ্ধার অভিযান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যাত্রাপুর থানাধীন সীমান্তবর্তী নির্ভয়পুর গ্রামের বাসিন্দা প্রমিতা ভৌমিক (মজুমদার), স্বামী প্রসেনজিৎ মজুমদার, গত ২৩ মে নিজের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার গভীর উদ্বেগে পড়ে। আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত মহলে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে যাত্রাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে যাত্রাপুর থানার পুলিশ। নিখোঁজ গৃহবধূ উদ্ধার করতে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে প্রমিতা ভৌমিক পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত রাজারহাট এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছেন।
তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রাপুর থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল দ্রুত রাজারহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অভিযানে গৃহবধূর স্বামী ও শাশুড়িকেও সঙ্গে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে পুলিশ সংশ্লিষ্ট হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রমিতা ভৌমিক এবং তাঁর শিশুসন্তানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে তাঁদের নিরাপদে ত্রিপুরায় ফিরিয়ে আনা হয়।
যাত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) পার্থ নাথ ভৌমিক জানান, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক বিজয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল কলকাতার রাজারহাটে যায়। সেখানে সফলভাবে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করে সোমবার প্রমিতা ও তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে রাজ্যে ফিরে আসে পুলিশ দল।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কী পরিস্থিতির কারণে ওই গৃহবধূ বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বাড়ি ফেরার পর তাঁকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে না হয়। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এই নিখোঁজ গৃহবধূ উদ্ধার অভিযানের সফল সমাপ্তিতে নির্ভয়পুরসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা যাত্রাপুর থানার পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পেশাদারিত্বের কারণেই মা ও শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ব্যবস্থার ফলে অনেক জটিল মামলার দ্রুত সমাধান হচ্ছে। প্রমিতা ভৌমিকের ঘটনাটিও তার একটি বড় উদাহরণ। পুলিশের এই সফল উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে বলেও মনে করছেন এলাকাবাসী।
Leave a Comment