সোনামুড়া, ২২ জুন: আগরতলা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নেশাজাতীয় সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হলো বামপন্থী যুব সংগঠন ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (DYFI)। রবিবার DYFI সোনামুড়া বিভাগীয় কমিটির ডাকে সোনামুড়া পোস্ট অফিসের সামনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ডাক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে নেশাজাতীয় সামগ্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরবরাহের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই হুমকি নয়, বরং যুব সমাজের ভবিষ্যতের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর বলে তারা মন্তব্য করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন DYFI সোনামুড়া বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সাহা, সভাপতি সুমন দে, কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম, ফরহাদ রানা, মিজান হোসেন, বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কাউসার আহমেদ, মোহাম্মদ হানিফ, প্রসেনজিৎ মজুমদার, জাকির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, সুস্মিতা দাস, তমা রায়সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে বক্তারা বলেন, মাদক আজ সমাজের অন্যতম বড় ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন উপায়ে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও অন্যদিকে নতুন নতুন পদ্ধতিতে মাদক পাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ডাক পরিষেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা দাবি করেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
DYFI নেতৃত্বের বক্তব্য, যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। কারণ মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই মাদকবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুব সংগঠনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। কর্মসূচির শেষে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
DYFI নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
মাদকবিরোধী এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোনামুড়া মহকুমায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।
Leave a Comment