সাব্রুম, ২ জুন: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার কলাছড়া এলাকায় ফের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে পরপর দুইটি যানবাহন চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়ে চললেও তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বাড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বৈদ্য কিছুদিন আগে কলাছড়ায় অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তিনি নিজের মোটরসাইকেলটি বাড়ির সামনে রেখে যান। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান মোটরসাইকেলটি নির্দিষ্ট স্থানে নেই। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না মেলায় বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন নম্বর TR08A9667 বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়েও মোটরসাইকেলটির কোনো হদিস পাননি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মনুবাজার থানায় একটি মিসিং ডায়েরি দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন আগে কলাছড়া রামঠাকুর আশ্রমের সামনে থেকে একটি স্কুটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ফের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা সামনে আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার চুরির ঘটনা সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছুদিন আগেই মনুবাজার বাজার এলাকায় একাধিক দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেইসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করা না যাওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে। রাতের বেলায় পুলিশের টহলদারি আরও জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কলাছড়া, মনুবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজার, রাস্তার মোড় এবং জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে অপরাধীদের শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপর কড়া নজর রাখারও দাবি উঠেছে।
এদিকে, মনুবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পরপর চুরির ঘটনায় বর্তমানে কলাছড়া ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া যানবাহন উদ্ধার না হলে এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Leave a Comment