নিজস্ব সংবাদদাতা, যশপাল সিং, ত্রিপুরা,১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তকে কেন্দ্র করে সক্রিয় মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল খোয়াই থানার পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পহরমুড়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েছে চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য আকাশ বিশ্বাস। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার দমনে আগেই কড়া অবস্থান নিয়েছিল খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার। সেই কৌশলগত নজরদারির ফলেই এই সফল গ্রেপ্তার বলে দাবি পুলিশের।
আটক আকাশ বিশ্বাস (২৭), পিতা হরিদাস বিশ্বাস, পহরমুড়া পঞ্চায়েতটিলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানব পাচারের দালাল হিসেবে কাজ করছিল বলে অভিযোগ। অবৈধ পারাপার করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করত সে। সম্প্রতি এক বাংলাদেশি নাগরিক ধরা পড়ার পর তার জিজ্ঞাসাবাদেই উঠে আসে আকাশের নাম।
উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে গৌরনগর সীমান্ত এলাকায় টহলদারির সময় বিএসএফ ১০৪ ব্যাটালিয়নের সি কোম্পানির জওয়ানরা একজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। ধৃত মোহাম্মদ আবু হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার নলবুনিয়া গ্রামে। তাকে খোয়াই থানায় তুলে দেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদে মানব পাচার চক্রের নানান দিক সামনে আসে।
সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ শনাক্ত করে মূল পলাতক দালাল আকাশ বিশ্বাসকে। অভিযোগ, সে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের চোরাপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবৈধ মানব পারাপার সংগঠিত করছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আকাশ একটি বিস্তৃত পাচার নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, এবং তার জেরা থেকে আরও তথ্য মিললে চক্রের অন্যান্য সদস্যও পুলিশের জালে ধরা পড়তে পারে।
ওসি কৃষ্ণধন সরকার জানিয়েছেন, “সীমান্ত এলাকায় যেসব পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ধৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে।”
গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মতে, বহুকাল ধরেই সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে পাচারচক্র সক্রিয় থাকলেও এভাবে মূল দালাল ধরা পড়ায় স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।
Leave a Comment