মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারানোর পরও হার মানেননি সোমন। কমনওয়েলথ গেমসের এফ৫৭ শটপুটে সোনা জিতে গড়লেন অনুপ্রেরণার ইতিহাস, শুভম জিতলেন রুপো।
অসম্ভবকে সম্ভব করার আরেক নাম যেন সোমন রানা। সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারিয়েও থেমে যাননি তিনি। সেই লড়াইয়েরই সোনালি পরিণতি মিলল কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games)-এর প্যারা অ্যাথলেটিক্সে। পুরুষদের এফ৫৭ শটপুট (F57 Shot Put) ইভেন্টে সোনা জিতে ভারতকে গর্বিত করলেন সোমন। একই ইভেন্টে রুপো জিতে ভারতের সাফল্যে আরও এক অধ্যায় যোগ করলেন শুভম জুয়াল (Shubham Juyal)।
ফাইনালের শুরু থেকেই দুরন্ত ছন্দে ছিলেন সোমন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই ১৩.৪০ মিটার দূরে শটপুট ছুড়ে সবার থেকে অনেকটা এগিয়ে যান তিনি। সেটিই ছিল তাঁর মরশুমের সেরা পারফরম্যান্স এবং শেষ পর্যন্ত সেই থ্রো-ই তাঁকে সোনার পদক এনে দেয়।
প্রথম প্রচেষ্টায় ১৩.৩৮ মিটার নিক্ষেপ করার পর তৃতীয় প্রচেষ্টায় ফাউল করলেও পরের তিনবার যথাক্রমে ১৩.১৪, ১৩.১৭ এবং ১৩.১১ মিটার ছুড়ে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন সোমন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনও সুযোগই দেননি তিনি।
অন্যদিকে শুভমও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। প্রথম প্রচেষ্টায় ১৩.০৮ মিটার থ্রো করার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তৃতীয় প্রচেষ্টায় ১৩.২৭ মিটার নিক্ষেপ করে পদকের লড়াইয়ে ফিরে আসেন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৩.২৮ মিটার থ্রো করে মরশুমের সেরা পারফরম্যান্স গড়ে রুপোর পদক নিশ্চিত করেন ভারতীয় অ্যাথলিট।
এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন ক্যামেরুনের সেড্রিক ইদ্রিস লেকেজো আজামদজি (Cedric Idriss Lekedjo Azamdji)। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ১২.৫৭ মিটার নিক্ষেপ করে তিনি তৃতীয় স্থান দখল করেন।
তবে পদকের থেকেও বেশি আলো কেড়েছে সোমনের জীবনসংগ্রাম। বিহারের গয়ার এক কৃষক পরিবারে জন্ম তাঁর। ২০০১ সালে গোরখা রাইফেলস (Gorkha Rifles)-এ যোগ দিয়ে সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। বক্সার হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় দায়িত্ব পালন করার সময় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। হাঁটুর নীচ থেকে একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়।
জীবনের সেই কঠিন সময়ই তাঁর নতুন পথের সূচনা করে। পুণের আর্টিফিশিয়াল লিম্ব সেন্টার (Artificial Limb Centre)-এ পুনর্বাসনের সময় প্যারা অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর প্যারা অ্যাথলেটিক্স দলে যোগ দেওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরপর দু’টি প্যারালিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জয়ের পর এবার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে নিজের অনুপ্রেরণার গল্পকে আরও উজ্জ্বল করে তুললেন সোমন।
Leave a Comment