---Advertisement---

ডুরান্ড কাপে আট গোলে জয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্টেরও, হ্যাটট্রিক মনবীর সিংয়ের, সুহেলের জোড়া গোল

By Suman Debnath

August 4, 2026 9:25 PM

ডুরান্ড কাপে আট গোলে জয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্টেরও, হ্যাটট্রিক মনবীর সিংয়ের, সুহেলের জোড়া গোল

---Advertisement---


ডার্বির পর জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। কয়েক দিন আগে ইস্টবেঙ্গল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিতেছিল আট গোলে। মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সবুজ-মেরুন বাহিনীও টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে সাউথ ইউনাইটেডকে হারাল ৮-০ গোলে। লাল-হলুদের পিভি বিষ্ণু সে দিন হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এ দিন হ্যাটট্রিক করেন মনবীর সিং। ম্যাচের শেষ দিকে দুমিনিটের মধ্যে জোড়া গেল করেন সুহেল ভাট। বাকি গোলগুলি করেন আলবার্তো রদ্রিগেজ ও রাহুল ভেকে। নিজ গোল করেন সাউথ ইউনাইটেড ডিফেন্ডার নোয়েল।

এ দিন প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই দু’গোলে এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। চতুর্থ মিনিটে মনবীর সিং গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। অনিরুদ্ধ থাপা প্রথমে বলটি কাট-ব্যাক করে মনবীরের উদ্দেশে বাড়ালেও তা কাজে লাগাতে পারেননি ফরোয়ার্ড। এর পর সহাল আব্দুল সামাদ বলটি গড়িয়ে দেন মনবীরের সামনে। মনবীর ঠাণ্ডা মাথায় বলটি টোকা মেরে জালে জড়িয়ে দেন।

দশম মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার মাপা কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে হেড করে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন আলবার্তো রদ্রিগেজ। এর পরের মিনিটেই ডানদিক থেকে পাওয়া ক্রস থেকে ব্যবধান আরো বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে যান ডার্বির একমাত্র গোলদাতা সহাল আব্দুল সামাদ। কিন্তু গোলে না ঢুকে তাঁর শট সাইড নেটে লাগে। ১৪ মিনিটের মাথায় মনবীর গোলের সামনে থেকে শট নিলেও তা আটকে দেন দক্ষিণের দলের গোলকিপার সুনীল সিং।

ম্যাচের বয়স মিনিট ১৫ গড়ানোর আগেই ছিটি গোলের সুযোগ তৈরি করে নেয় কলকাতার দল, গোলের লক্ষ্যে ছিল পাঁচটি শট। ১৯ মিনিটের মাথায় ফের গোল করে ব্যবধান আরো বাড়ান রাহুল ভেকে। বক্সের বাঁদিক থেকে তোলা মনবীরের ক্রসে দুর্দান্ত হেড করে জালে বল জড়িয়ে দেন ভারতীয় দলের ডিফেন্ডার।

আরও পড়ুন:  কারাকোরামে তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুর্জার, শোকে স্তব্ধ বিশ্বজোড়া পর্বতারোহীরা 

তিনটির মধ্যে দুটি গোলই করেন ডিফেন্ডাররা। এ থেকেই বোঝা যায় কতটা আক্রমণাত্মক খেলছিল মোহনবাগান। ২২ মিনিটের মাথায় ফের গোল করেন মনবীর সিং। এ বার বক্সের বাঁ দিক থেকে দেওয়া সহালের মাইনাসে কোণাকুনি শট নেন মনবীর, যা অনায়াসে গোলে ঢুকে পড়ে। অর্থাৎ, ২২ মিনিটের মধ্যেই ৪-০-য় এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন বাহিনী।

চার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ঘন ঘন আক্রমণে ওঠে বাগান-বাহিনী। দেজান দ্রাজিচ, লিস্টন কোলাসো, সহালরা গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। বেশিরভাগ সময়ই শুধু সাউথ ইউনাইটেডের অর্ধে নয়, তাদের গোল এরিয়ায় খেলা হয়।৩২ মিনিটের মাথায় সহালের কোণাকুনি শট পোস্টের ভিতরের দিকে লেগে ফিরে আসে। এর তিন মিনিট পরেই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর দূরপাল্লার শটও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর ঠিক আগে মনবীর প্রায় ফাঁকায় গোলমুখী বল পেয়ে যান। কিন্তু তিনি বক্সে ঢুকতে ঢুকে তাঁকে তিন ডিফেন্ডার ঘিরে ধরেন। ফলে আর গোলে শট নিতে পারেননি তিনি।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে সহালের কাট ইন থেকে ফের গোলের সুযোগ পেয়ে যান মনবীর। কিন্তু তাঁর শট বাঁচিয়ে দেন গোলকিপার। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ডানদিক থেকে দ্রাজিচের ক্রসে সঠিক সময়ে পা ছোঁয়াতে পারলেই হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন তিনি। কিন্তু এ বারও পারেননি।

চার গোল খাওয়ার পর ৩৬ মিনিটের মাথায় এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের সুযোগ পেয়ে যান সাউথ ইউনাইটেডের নাম্বার নাইন ডানিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে তিনি যখন গোলে শট নেন, তখন সামনে বিশাল কয়েথ ছাড়া কেউ ছিলেন না। অসাধারণ দক্ষতায় গোলমুখী শট বাঁচান মোহনবাগান কিপার।

আরও পড়ুন:  ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র’ প্রয়োগ করতে ফিফার বিশেষ অনুমতি পেয়ে পেয়ে গেলেন মেসিরা, কী সেই অস্ত্র?

প্রথমার্ধে শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত কলকাতার দলেরই আধিপত্য ছিল। প্রথম ৪৫ মিনিটে তাদের বল পজেশন ছিল ৬৭ শতাংশ। ১৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা এবং লক্ষ্যে শট ছিল আটটি। তবে চার গোলেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মোহনবাগান এসজি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিয়ান নাসিরি ও অভিষেক সূর্যবংশী নামেন যথাক্রমে কোলাসো ও টাঙরির জায়গায়। এই অর্ধেও মোহনবাগানের দাপচ বজায় ছিল। তবে তাদের প্রতিপক্ষ রক্ষণ ক্রমশ আঁটোসাঁটো করে ফেলে। খেলা শুরুর দশ মিনিটের মধ্যেই আলবার্তোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

প্রথমার্ধেই যে হ্যাটট্রিকটি করে ফেলতে পারতেন মনবীর, তা হতে লেগে যায় ৬০ মিনিট। ঠিক ৬০ মিনিটের মাথাতেই থাপার কর্নারে সামনে ডাইভ দিয়ে মাথা ছুঁইয়ে গোলে পাঠিয়ে দেন মনবীর এবং দলকে পাঁচ গোলে এগিয়ে দেন।

৬৯ মিনিটের মাথায় ফের ব্যবধান বাড়ে, তবে এই গোলটি মোহনবাগানকে উপহার দেন সাউথ ডিফেন্ডার নোয়েল। বাঁ দিক থেকে দ্রাজিচ গোলের সামনে ক্রস পাঠালে সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের গোলেই পাঠিয়ে দেন নোয়েল। এই গোলের পরেই সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুহেল ভাটকে নামায় মোহনবাগান। বিশ্রাম দেওয়া হয় মনবীর ও দ্রাজিচকে।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সাত নম্বর ও সংযুক্ত সময়ে আট নম্বর গোলটি করেন সুহেল ভাট। সহালের তৃতীয় অ্যাসিস্ট থেকে প্রথম গোলটি করেন। দ্বিতীয়টিও ছিল অসাধারণ।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment