---Advertisement---

আবেগ আর ভালোবাসায় মাখামাখি মোহনবাগান দিবস

By Suman Debnath

July 29, 2026 8:15 PM

আবেগ আর ভালোবাসায় মাখামাখি মোহনবাগান দিবস

---Advertisement---


২৯ জুলাই, ১৯১১ সাল। ভারতীয় ফুটবলের এক অবিস্মরণীয় দিন। সেদিন শুধু বাংলার নয়, ভারতীয় ফুটবলে এক নবজাগরণ ঘটেছিল। সেদিন আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্ট ইয়ার্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে মোহনবাগান স্বাধীনতার আগমনী বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। বাংলার দামাল ফুটবলাররা ওই ম্যাচে খালি পায়ে খেলে গোরা ফুটবলারদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, আমরা কী ঘটনা ঘটাতে পারি। সেদিন বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা মোহনবাগানকে সমর্থন জানাতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে এসেছিলেন। শুধু ফুটবলারদের উৎসাহ দেওয়া নয়, তাঁদের সংগ্রামী ভূমিকাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কত দর্শক সেদিন  মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি, তবুও মাঠের ধারে বিভিন্ন গাছের ডালে বসে সেদিনের খেলা উপভোগ করেছিলেন। মোহনবাগানের দুরন্ত ফুটবলাররা আইএফএ শিল্ড জয়ের পরে যখন রাজপথে পা দিয়েছেন, তখন তাঁদের মানুষের জোয়ারে ভেসে যেতে হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক জয়ের কথা ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে লেখা রয়েছে। আজ থেকে ১১৫ বছর আগে এই দিনটাকে স্মরণ করে প্রতি বছর ‘মোহনবাগান দিবস’ পালন করা হয়।

এই দিবসটা আবেগের, ভালোবাসার এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোলার। তাই তো এই মিলনোৎসবে হাজার হাজার সবুজ-মেরুন সমর্থক ক্লাবে ছুটে আসেন। এই উৎসবে তাঁদের প্রাণের কথা একে অপরের কাছে পৌঁছে দেন। মোহনবাগানর গৌরবময় অধ্যায়, ইতিহাসের কথা মন্থন করা হয়। নিজেরাও সমৃদ্ধ হন এই দিনটাকে সামনে পেয়ে। হোক না বৃষ্টি। আবহাওয়া যতই খারাপ হোক, তবুও মোহনবাগানের সমর্থকদের মধ্যে কোথাও ব্যারিকেড তৈরি হয়নি। সমস্ত কিছু অন্তরায়কে ফেলে দিয়ে এই ছুটে আসাটা আলাদা একটা অনুভূতি। এই অনুভূতির অধ্যায়টা বুধবার দুপুর থেকেই চোখে পড়েছে। সবুজ-মেরুন আলোয় ভরপুর তাঁবুতে কেউ পর নয়। সবার পরিচয়, আমরা মোহনবাগান।

আরও পড়ুন:  বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মতোই দাপুটে ফুটবল পছন্দ মোহনবাগানের গ্রিক কোচের, ডার্বির আগে কী বললেন তিনি?

এই দিনটাকে আরও উজ্জ্বল করার জন্য প্রায় ১৫০ প্রাক্তন ফুটবলার হাজির হয়েছিলেন মাঠে। এসেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ সহ আরও বিদগ্ধ ব্যক্তিরা। তাই তো ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, মোহনবাগান শুধু বাংলার নয়, ভারতের গৌরব। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে খালি পায়ে যেভাবে লড়াকু ও সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন, তা চিরঅক্ষয়। ব্রিটিশদের খালি পায়ে হারিয়ে দেওয়াটা অবশ্যই সাহসীকতার পরিচয়।

পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এদিনের উৎসবের সূচনা হয়। তারপরে সেদিনের অমর একাদশ-কে জানানো হয়। তার আগে ময়দানে গোষ্ঠ পালের মর্মর মূর্তির পাদদেশে সমবেত হয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় তাঁর প্রতি। এদিন প্রাক্তন ফুটবলাররা প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন। দেখা গেল যখন ফুটবলাররা খেলতে নামছেন, তখন তাঁরা মাঠকে প্রণাম করছেন। আসলে এই মাঠ থেকে ভারতের তারকা ফুটবলাররা উঠে এসেছেন। হয়তো সেই কারণেই এই প্রদর্শনী ম্যাচে অংশগ্রহণ করাটা তাঁদের কাছে গৌরবের। এদিন দেখা গেল সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রশান্ত ব্যানার্জি, বিদেশ বসু, শ্যাম থাপারা মাঠে না নামলেও প্রাক্তনদের পাশে উৎসাহ দেওয়ার জন্য কোনওরকম দ্বিধা প্রকাশ করেননি। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের এই প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন মানস ভট্টাচার্য, শিলটন পাল ও সত্যজিৎ চ্যাটার্জি। এই দিনটাকে ‘মোহনবাগান দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন সচিব অঞ্জন মিত্র। ২০১১ সাল থেকে এই সম্মান চালু করা হয়। প্রথম ‘মোহনবাগান রত্নে’ সম্মানিত হয়েছিলেন পদ্মশ্রী শৈলেন মান্না। আর এবারে ‘মোহনবাগান রত্ন’ পেতে চলেছেন এই দিনটির রূপকার প্রয়াত অঞ্জন মিত্র।  এ বাদেও অন্যান্য সম্মানে সম্মানিত হবেন খেলোয়াড়রা। তাঁদের হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হবে বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। মোহনবাগানের প্রতিষ্ঠা দিবস ১৫ আগস্ট। তবুও মোহনবাগান দিবস সবার কাছে আবেগ ও ভালোবাসার।

আরও পড়ুন:  শুভমনের ‘ক্র্যাম্প’, বিরাট-রোহিতের ব্যাটে খরা সত্ত্বেও অক্ষর-সুন্দর জুটি ভারতকে জয়ে ফেরানোর পর কী বললেন অধিনায়ক?

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment