---Advertisement---

এক দিনেই ইতিহাস! বক্সিংয়ে সাত সোনা, কমনওয়েলথে ভারতের নজিরবিহীন সাফল্য, উজ্জ্বল জুডো ও প্যারা অ্যাথলিটরাও

By Suman Debnath

August 2, 2026 9:35 AM

এক দিনেই ইতিহাস! বক্সিংয়ে সাত সোনা, কমনওয়েলথে ভারতের নজিরবিহীন সাফল্য, উজ্জ্বল জুডো ও প্যারা অ্যাথলিটরাও

---Advertisement---


কমনওয়েলথ গেমসে শনিবারটা যেন ছিল পুরোপুরি ভারতের দখলে। এক দিনের পদক-বৃষ্টিতে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় দল। সবচেয়ে বড় সাফল্য এল বক্সিংয়ে, যেখানে রেকর্ড সাতটি সোনার পদক জিতে নজির গড়লেন ভারতীয় বক্সাররা। এর পাশাপাশি জুডো এবং প্যারা অ্যাথলেটিক্সেও এল একাধিক পদক। সব মিলিয়ে ভারতের ঝুলিতে যোগ হল ১৬টি পদক, যার জেরে পদক তালিকায় ভারত উঠে এল চতুর্থ স্থানে।

ভারতের বক্সাররা এ দিন কার্যত প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেন। সাতটি সোনার পাশাপাশি আসে তিনটি রুপো, যা কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের বক্সিংয়ের সেরা পারফরম্যান্স। মহিলা ও পুরুষ— দুই বিভাগেই ভারতীয় বক্সারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো।

পদক তালিকায় ৬১টি সোনা নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের পরে রয়েছে যথাক্রমে ইংল্যান্ড এবং কানাডা। ভারত যে আটটি সোনার পদক জিতেছে, তার মধ্যে সাতটিই এসেছে বক্সিং থেকে।

কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এটাই ভারতীয় বক্সারদের সর্বকালের সেরা সাফল্য। সাতটি সোনা এবং তিনটি রুপো জিতে বক্সিংয়ের পদক তালিকাতেও শীর্ষে রয়েছে ভারত।

ভারতের অষ্টম সোনার পদকটি জিতেছেন সোমন রানা। তিনি পুরুষদের এফ-৫৭ প্যারা শট পুট ইভেন্টে সোনা জয় করেন।

বক্সিং রিংয়ে কার্যত রাজত্ব করেছে ভারত। প্রত্যাশামতোই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ভারতীয় মহিলা বক্সাররা জেতেন পাঁচটি সোনার পদক। অন্যদিকে, পুরুষদের বিভাগে সচিন সিওয়াচ ও অঙ্কুশ পাংঘাল সোনা জিতে ভারতের কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বক্সিংয়ে সর্বকালের সেরা সাফল্য নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন:  ড্রেসিংরুমেই লুকিয়ে ফ্রান্সের সাফল্যের আসল রহস্য! মাঠের বাইরের 'গোপন বৈঠক'-ই বদলে দিচ্ছে এমবাপ্পেদের ভাগ্য

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জয়সমিন ল্যাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), এশিয়ান গেমস পদকজয়ী প্রীতি পানওয়ার (৫৪ কেজি), এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন প্রিয়া ঘাংঘাস (৬০ কেজি), সাক্ষী চৌধুরি (৫১ কেজি) এবং অরুন্ধতী চৌধুরি (৭০ কেজি) সোনার পদক জেতেন। তবে অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোহাঁইকে (৭৫ কেজি) ফাইনালে হেরে রুপোর পদকেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

পুরুষদের বিভাগে সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৭০ কেজি) সোনা জিতেছেন। অন্যদিকে যাদুমণি সিং (৫৫ কেজি) এবং এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদকজয়ী নরেন্দর বেরওয়াল (+৯০ কেজি) রুপোর পদক জিতেছেন।

এর আগে কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ে ভারতের সেরা সাফল্য এসেছিল ২০১৮ সালে গোল্ড কোস্টে। সেবার ভারত জিতেছিল মোট সাতটি পদক, যার মধ্যে ছিল তিনটি সোনা। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বক্সাররা।

অ্যাথলেটিক্সেও ইতিহাস গড়লেন গুলবীর সিং। কমনওয়েলথ গেমসে ৫,০০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে এই ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় হিসেবে নাম লিখলেন তিনি। শুধু তাই নয়, একই আসরে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দুটি পদক জেতা প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবেও নতুন নজির গড়লেন গুলবীর।

বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন গুলবীর তিন দিন আগে ১০,০০০ মিটারে রুপোর পদক জিতেছিলেন, প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ৫,০০০ মিটারে ১৩ মিনিট ২৪.৯৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন। সেই সঙ্গে এক আসরে দুটি পদক জিতে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ে ফেলেন তিনি।

আরও পড়ুন:  মাইন বিস্ফোরণে হারিয়েছিলেন একটি পা, সেই যোদ্ধার হাতেই কমনওয়েলথে সোনা! ইতিহাস গড়লেন সোমন, রুপো শুভমের

প্যারা অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের সাফল্য ছিল নজরকাড়া। ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিটরা মোট সাতটি পদক জেতেন— তিনটি সোনা, দুটি রুপো এবং দুটি ব্রোঞ্জ। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্যারা গেমসে এটিই ভারতের সেরা পারফরম্যান্স।

সব মিলিয়ে শনিবার ভারতের জন্য হয়ে রইল স্মরণীয়। বক্সিংয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য, এবং প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নজিরবিহীন পদকজয়ের সুবাদে গ্লাসগোয় ভারতের অভিযান পৌঁছে গেল নতুন উচ্চতায়। এখন শেষ দিনের প্রতিযোগিতায় সেই সাফল্যের ধারাই ধরে রাখতে চাইবেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা।

রবিবার ট্র্যাক সাইক্লিং এবং প্যারা ট্র্যাক সাইক্লিংয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেবেন ভারতীয় প্রতিযোগীরা।

এবারের কমনওয়েলথ গেমস ভারতের প্যারা গেমসের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স। ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসে প্যারা গেমস অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে গ্লাসগোর আগে পর্যন্ত ভারত মোট সাতটি পদক জিতেছিল— একটি সোনা, দুটি রুপো এবং চারটি ব্রোঞ্জ।

এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমস ছিল ভারতের প্যারা গেমসে সবচেয়ে সফল আসর। সেবার প্যারা টেবল টেনিসে ভাবিনা পটেল সোনার পদক এবং সোনালবেন পটেল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। তবে এ বারের সাফল্য অতীতের সব নজির ভেঙে দিল।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment