ভারতীয় ক্রিকেট দলের (India National Cricket Team) অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ সামি (Mohammed Shami) দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ধর্ম, জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে অকপট মত প্রকাশ করেছেন এই তারকা ক্রিকেটার। তাঁর বক্তব্য, দেশের হয়ে খেলতে নামলে ধর্ম বা ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে ওঠে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা।
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (ICC Champions Trophy)-র ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষবার ভারতের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল সামিকে। এরপর চোট ও অন্যান্য কারণে তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। তবে ক্রিকেটের বাইরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যু নিয়ে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতীয় পেসার।
ধর্মের ভিত্তিতে সমাজকে ভাগ করার প্রবণতার বিরোধিতা করে সামি বলেন, তিনি কখনও এই ধরনের মানসিকতাকে সমর্থন করেননি। তাঁর কথায়, “আমি কখনও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের পক্ষে ছিলাম না। কেউ যদি আমার সমালোচনা করতে চান, তাহলে তার অন্তত যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা উচিত। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুসলিম নন, কিন্তু তাতে আমার কোনও সমস্যা নেই।”
তিনি আরও বলেন, জীবনে যত বড় মঞ্চে পৌঁছন, ধর্মীয় পরিচয়ের গুরুত্ব তত কমে আসে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন ক্রীড়াবিদের পরিচয় শুধুমাত্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। সেই কারণেই জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে নামার অনুভূতিকে তিনি অন্য সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখেন।
দেশপ্রেম প্রসঙ্গে সামির মন্তব্য, “একবার সীমান্তে গিয়ে দেখুন, তখন বুঝবেন দেশের কথা এলে এই প্রশ্নগুলোর কোনও মূল্য থাকে না। বুকের উপর দেশের প্রতীক থাকলে বাকি সব পরিচয় পিছনে চলে যায়।” তাঁর মতে, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিত এবং দেশ কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, সবার।
ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এই অভিজ্ঞ পেসার। তিনি বলেন, দেশের মানুষ বহুদিন ধরেই একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে সামিল হয়ে আসছেন। হোলি, ইদ কিংবা দীপাবলি—সব উৎসবই মিলেমিশে উদ্যাপন করাই ভারতের ঐতিহ্য।
সাক্ষাৎকারে কানওয়ার যাত্রা (Kanwar Yatra) নিয়েও মন্তব্য করেন সামি। তাঁর বক্তব্য, কোনও ধর্মীয় উৎসবের কারণে যদি সাময়িকভাবে রাস্তা বন্ধ রাখতে হয়, তাতেও তাঁর আপত্তি নেই। তিনি বলেন, “এটা আপনাদের উৎসব, আনন্দ করে পালন করুন। এতে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই।”
তবে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় পেসার। তাঁর মতে, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক ও সংঘাত তৈরি করতে চান। সামির কথায়, “যদি কেউ ঝগড়া করতে চায়, তাহলে যে কোনও বিষয় নিয়েই ঝগড়া করা যায়। কিছু মানুষের হাতে হয়তো খুব বেশি সময় থাকে।”
মহম্মদ সামির এই মন্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং খেলাধুলার মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—দেশের স্বার্থ ও জাতীয় পরিচয়ই সবচেয়ে বড়, ধর্ম বা ব্যক্তিগত পরিচয় তার পরে।
Leave a Comment