ভারত বনাম ব্রাজিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ঘোষণার পর থেকেই উচ্ছ্বসিত দেশের ফুটবলমহল। কিন্তু সেই ম্যাচের সময়ই ভারতীয় ফুটবল দলের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট রয়েছে, উদ্বোধনী ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬। ব্রাজিল ম্যাচে দল নামানোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ করা হয় বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে। কিন্তু এর তীব্র বিরোধিতা করেন সভায় থাকা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া।
৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা। একই সময়ে ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর) হবে ফিফা আসিয়ান কাপও। সেক্ষেত্রে একই আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় দুটি আলাদা দল নামাতে হবে ভারতকে, যা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে সরে আসার পথেই হাঁটার প্রস্তাব আসে এই সভায়।
কিন্তু বাইচুং-সহ বেশ কয়েকজন সদস্য এই প্রস্তাবে তীব্র বিরোধিতা করেন। যার ফলে সব দিক বজায় রাখারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শেষ পর্যন্ত। ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসরে ভারত রয়েছে ডিভিশন ১-এ। ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। টুর্নামেন্টটি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শক্তিশালী এশীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে ফিফা র্যাঙ্কিং উন্নত করার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। কিন্তু ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগকেও কম গুরুত্ব দেওয়ার উপায় নেই ফেডারেশনের।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বহু বছর পর বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবল দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ভারত। সেই ম্যাচ থেকে ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা এবং ভারতীয় ফুটবলের আন্তর্জাতিক প্রচার— দুই-ই বাড়বে বলে মনে করছে ফেডারেশন। তবে তার বিনিময়ে যদি ফিফা আসিয়ান কাপ ছাড়তে হয়, তা হলে তাও ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে মোটেই মঙ্গলজনক হবে না। সে জন্যই দুই কুল বজায় রাখারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
এই প্রসঙ্গে বৃহ্স্পতিবার একটি স্পোর্টস ওয়েবসাইটকে তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলেছি, ভারতের প্রথম দলকেই ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে পাঠানো উচিত। এই প্রতিযোগিতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের তুলনায় অনেক উঁচু মানের। অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক পুরস্কারও পাওয়া যায়। তা ছাড়া ভালো ফল করলে উল্লেখযোগ্য প্রাইজমানিও রয়েছে। তার থেকেও বড় কথা, দলের উন্নতির জন্য এই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন-চারটি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলোয়াড়দের জন্য অনেক বেশি উপকারী। আমার মতে, এই টুর্নামেন্টকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত’।
বাইচুংয়ের মতে, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে ভারতের তরুণ ফুটবলাররা মূল্যবান আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের এশিয়ার প্রতিযোগিতাগুলির জন্য জাতীয় দলকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতেও এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল তো ব্রাজিলই। ওদের বিরুদ্ধে খেলতে পারা অবশ্যই বড় বিষয়। কিন্তু সময়টা গোলমেলে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তো মাত্র একটা ম্যাচ। জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে একটা ম্যাচ থেকে অর্থ ছাড়া কীই লাভ হবে?’
আসিয়ান কাপে অন্তত তিনটি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা পাবে ভারত। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর— ভারতকে যাদের বিরুদ্ধে এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নিয়মিত খেলতে হয়। এমনকী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও এই দলগুলির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তরুণ ফুটবলারদের পরীক্ষা করা, দলের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলা এবং প্রায় সমান শক্তির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের আদর্শ জায়গা এই টুর্নামেন্ট। একটি ফ্রেন্ডলি এগজিবিশন ম্যাচের তুলনায় ভবিষ্যতের যোগ্যতা অর্জন পর্বগুলির জন্য ভারতীয় ফুটবলের আগামী প্রজন্মকে তৈরি করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে।
Leave a Comment