---Advertisement---

বয়স বিশ পর আর্থিক যে বিষয়গুলো জরুরি

By Suman Debnath

August 9, 2026 12:55 PM

বয়স বিশ পর আর্থিক যে বিষয়গুলো জরুরি

---Advertisement---


কুড়ির দশক জীবনের নানা নতুন অভিজ্ঞতায় ভরা। এই সময়েই অনেকে প্রথম বেতন পান, নিজের খরচে বাসা নেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করেন কিংবা প্রথমবার বড় কোনো কেনাকাটা করেন। কারও ক্ষেত্রে এই সময়েই শুরু হয় বিনিয়োগের পথচলা। ফলে অর্থের বিষয়টি একদিকে যেমন রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে তেমনি অনেকের কাছে বিভ্রান্তিকরও মনে হতে পারে। মাসের শুরুতে হাতে টাকা আসার পর নিজেকে স্বচ্ছল মনে হলেও কয়েক দিন পরই প্রশ্ন জাগে—এত টাকা গেল কোথায়?


তবে সম্পদ গড়ার জন্য শুরুতেই বড় অঙ্কের আয় করা জরুরি নয়। বরং অল্প বয়স থেকেই এমন কিছু আর্থিক অভ্যাস তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করবে। কুড়ির দশকে গড়ে তোলা এই অভ্যাসগুলো পরবর্তী জীবনে অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।


সবার আগে নিজের জন্য টাকা রাখুন


অনেকেই মাসের সব খরচ মেটানোর পর যে টাকা বেঁচে যায়, সেটিই সঞ্চয় করেন। কিন্তু বাস্তবে মাস শেষে হাতে খুব বেশি টাকা অবশিষ্ট থাকে না। তাই বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সঞ্চয়ের একটি অংশ আলাদা করে রাখার অভ্যাস করুন। আয় অনুযায়ী ১০ বা ২০ শতাংশ দিয়ে শুরু করতে পারেন। এই অর্থ আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা বা বিনিয়োগে ব্যবহার করা যেতে পারে। সঞ্চয়কে মাসিক বাধ্যতামূলক খরচের মতো বিবেচনা করলে অভ্যাসটি ধরে রাখা সহজ হবে।


কোথায় কত টাকা খরচ করছেন, তা জানুন


বাজেট তৈরির জন্য সবসময় জটিল অ্যাপ বা বড় কোনো স্প্রেডশিটের প্রয়োজন নেই। অন্তত এক মাস নিজের প্রতিটি খরচের হিসাব রাখুন। কফি, রেস্তোরাঁ, অনলাইন খাবার, সাবস্ক্রিপশন, যাতায়াত কিংবা কেনাকাটা—ছোট-বড় সব ব্যয়ই লিখে রাখুন। এতে এমন অনেক খরচ চোখে পড়বে, যেগুলো সম্পর্কে আপনি হয়তো সচেতনই ছিলেন না।

আরও পড়ুন:  ঘুম আসছে না? রাত জাগা দূর করে দ্রুত ঘুম আসার ১০টি ঘরোয়া উপায় ও কারণ


আয় বাড়লেই খরচ বাড়াবেন না


বেতন বাড়লে জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য আসা স্বাভাবিক। কিন্তু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যদি খরচও একই হারে বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ কমে যায়। তাই বেতন বাড়ার সঙ্গে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়ানোর চেষ্টা করুন। নিজের সাফল্য উপভোগ করুন, তবে বাড়তি আয়ের পুরোটা যেন অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায় চলে না যায়।


বিলাসিতার আগে জরুরি তহবিল গড়ুন


দামি ফোন, নতুন পোশাক কিংবা স্বপ্নের ভ্রমণের পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে হাতে অর্থ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ চিকিৎসা খরচ, চাকরি হারানো বা পারিবারিক কোনো সংকটের সময় এই তহবিল বড় সহায়তা দিতে পারে। তাই কয়েক মাসের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর মতো একটি জরুরি তহবিল তৈরির চেষ্টা করুন এবং অর্থটি সহজে ব্যবহার করা যায় এমন জায়গায় রাখুন।


অল্প হলেও বিনিয়োগ শুরু করুন


বিনিয়োগের জন্য অনেক টাকা জমা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কুড়ির দশকে আপনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময়। অল্প পরিমাণ অর্থ নিয়মিত বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘ সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তাই বড় অঙ্ক দিয়ে শুরু করার অপেক্ষা না করে সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট পরিমাণে বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তুলুন।


প্রয়োজন আর ইচ্ছার পার্থক্য বুঝুন


প্রতিটি কেনাকাটাই যে খারাপ সিদ্ধান্ত, তা নয়। তবে কোনো কিছু কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এটি কি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি মুহূর্তের ইচ্ছা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের দেখে কোনো পণ্য কেনার ইচ্ছা হচ্ছে কি না, সেটিও ভাবুন। কেনাকাটার আগে কয়েক মুহূর্ত থেমে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন:  ইনসুলিন বন্ধে হতে পারে প্রাণঘাতী জটিলত


একটি আয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হবেন না


চাকরির বেতনই অনেকের প্রধান আয়ের উৎস। তবে সুযোগ থাকলে অতিরিক্ত আয়ের পথ তৈরির চেষ্টা করা যেতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং, টিউশনি, কনটেন্ট তৈরি, পরামর্শ দেওয়া কিংবা ডিজিটাল পণ্য বিক্রির মতো কাজ বাড়তি আয় এনে দিতে পারে। এর জন্য একবারে বড় কোনো ব্যবসা শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।


ঋণ নেওয়ার আগে সব শর্ত বুঝে নিন


সব ধরনের ঋণ খারাপ নয়। তবে ক্রেডিট কার্ড বা কোনো ঋণ নেওয়ার আগে সুদ, পরিশোধের সময়সীমা, কিস্তি এবং নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করলে কী হতে পারে—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। কোনো পণ্য কেনার আগে শুধু মাসিক কিস্তির পরিমাণ নয়, শেষ পর্যন্ত মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটিও বিবেচনা করুন।


অর্থ নিয়ে কথা বলতে সংকোচ করবেন না


অনেকেই সম্পর্ক, ক্যারিয়ার বা ভ্রমণ নিয়ে স্বচ্ছন্দে আলোচনা করলেও অর্থের বিষয়টি এড়িয়ে চলেন। অথচ বেতন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, কর ও আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। অবশ্যই নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করার প্রয়োজন নেই। তবে অভিজ্ঞ মানুষদের কাছ থেকে শেখার মানসিকতা থাকলে কুড়ির দশকেই অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করা সম্ভব।


আমার বাঙলা/ রাব্বি

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment