দেশে এখন আর কোনও মাওবাদী-প্রভাবিত জেলা নেই। প্রায় ছয় দশকের সশস্ত্র আন্দোলনের পর ভারত কার্যত বামপন্থী চরমপন্থার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে বলে বুধবার রাজ্যসভায় জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে একটি জেলাকে এখনও ‘উদ্বেগজনক জেলা’ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। সেখানে মাওবাদী কার্যকলাপ দমন করা গেলেও পরিস্থিতির উপর আরও কিছুদিন নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।
রাজ্যসভায় লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, ২০১৮ সালের এপ্রিলে দেশে ১২৬টি মাওবাদী-প্রভাবিত জেলা ছিল। পরে ধাপে ধাপে সেই সংখ্যা কমে ২০২১ সালের জুলাইয়ে দাঁড়ায় ৭০টি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে সেই সংখ্যা আরও কমে হয় ৩৮। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৮-এ নেমে আসে। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ সেই সংখ্যা শূন্যে পৌঁছেছে।
কেন্দ্রের দাবি, এই সাফল্য এসেছে ২০১৫ সালের জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ অভিযানের ফলে। মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযান, আত্মসমর্পণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার তৎপরতায় তাদের সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলার নাম না জানালেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের দাবি, ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূমই বর্তমানে একমাত্র ‘উদ্বেগজনক জেলা’। সেখানেই দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা।
মঙ্গলবার রাতে যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। বেসরার গ্রেপ্তারের পর সিপিআই মাওবাদীর আর কোনও সক্রিয় পলিটব্যুরো সদস্য নেই বলেও সূত্রের দাবি। এছাড়াও বর্তমানে ৩৭টি জেলাকে ‘লিগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলি আর মাওবাদী প্রভাবিত নয়। কিন্তু যাতে পরিস্থিতির আবার অবনতি না হয় সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়া হবে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত মাওবাদী-সংক্রান্ত ৩৩টি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে ৬ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৫ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তুলনায়, ২০২৩ সালে ৪৮৬টি ঘটনায় ১০৭ জন সাধারণ মানুষ এবং ৩২ জন নিরাপত্তাকর্মীর প্রাণ গিয়েছিল। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, যেসব এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ বন্ধ হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ ক্যাম্পকে ধীরে ধীরে জনসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলিতে স্থানীয় মানুষ সরকারি প্রকল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা, দক্ষতার উন্নয়ন, ডিজিটাল পরিষেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রের দাবি, নিরাপত্তা অভিযান এবং উন্নয়ন, এই দুই কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করেই মাওবাদী প্রভাবমুক্ত ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়েছে।
Leave a Comment