মহিলা সাংসদদের প্রতি অসংসদীয় আচরণের অভিযোগে গোটা বর্ষাকালীন অধিবেশনের জন্য লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারলেও প্রতিদিন সংসদ চত্বরে উপস্থিত হয়ে দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে একাই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এদিন গলায় একটি পোস্টার ঝুলিয়ে সংসদ চত্বরে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় তাঁকে। পোস্টারে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের ছবি দেখা যায়। তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দিয়ে স্লোগান তোলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে ঢোকার সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে সেখানে গিয়ে দাঁড়ান কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব এবং আরও কয়েকজন। প্রিয়াঙ্কা জানতে চান, তিনি কী করছেন। উত্তরে কল্যাণ বলেন, ‘তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা এই ২০ জন এখন মোদীজির পাশে বসে সংসদে রয়েছেন।‘
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দেয়। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়দের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে লোকসভায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র ও সৌগত রায়ের মতো নেতারা তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেই উল্লেখ করছেন।
সেই সময় প্রিয়ঙ্কা গান্ধী অতীতের প্রসঙ্গে তুলে বলেন, এই সাংসদদের অনেকেই আগে কংগ্রেস ছিলেন, পরে তৃণমূলে গিয়েছেন এবং এখন আবার অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। হাসতে হাসতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এর বিরোধিতা করে বলেন, তাঁদের কেউই কংগ্রেসের টিকিটে জিতে সংসদে আসেননি।
যদিও রাজনৈতিক মহলে দলবদলের এমন নজির আগেও রয়েছে। ২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়ার পর বায়রন বিশ্বাস তৃণমূলে যোগ দেন। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জেতেন। এরপর তিনিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে চলে যান। একইভাবে অতীতে একাধিক বিজেপি বিধায়কও তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।
এদিন নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব বলেন, ‘তাঁরা তো একসময় কংগ্রেসেই ছিলেন’। জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনিও একসময় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি অভিযোগ করেন, ‘১৯৯৭ সালে আপনারাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। সেটা না হলে আজ কংগ্রেসের এই অবস্থা হতো না।‘
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়। যদিও নতুন দল গঠনের ঘোষণা হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর কংগ্রেস তাঁকে বহিষ্কার করেছিল। এই বিতর্কে আর না গিয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁর বাবা রাজীব গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথেষ্ট সম্মান ও স্নেহ করতেন।
তিনি আরও বলেন, পরে কংগ্রেস-সিপিএমের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যায়, অথচ তৃণমূলের প্রধান লড়াই ছিল সিপিএমের বিরুদ্ধেই। তাঁর দাবি, সেই সময় প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি ও প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো কংগ্রেস নেতারাও সিপিএমের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশই তাঁরা অনুসরণ করতেন।
এরপর হাসিমুখে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যান। যাওয়ার আগে পাপ্পু যাদব প্রশ্ন করেন, কংগ্রেস এখন আপনাদের সঙ্গে আছে তো? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জবাবে জানান, আছে। এরপর তিনি আবারও গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
Leave a Comment