---Advertisement---

সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন, বাড়ছে শাস্তি

By Suman Debnath

July 30, 2026 5:10 PM

সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন, বাড়ছে শাস্তি

---Advertisement---


আবারও সংশোধন করা হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন। নতুন ধারা সংযোজনের মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানি ও হেয়প্রতিপন্নমূলক তথ্য প্রচারকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংশোধিত আইনে এসব অপরাধের জন্য আগের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


সংশোধিত আইনের খসড়ায় নতুন একটি ধারা (২৬/ক) সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ কিংবা প্রচার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


খসড়ায় ‘গুজব’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, গুজব হলো এমন অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা কিংবা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে অথবা এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি তৈরি করে।


অন্যদিকে ‘অপতথ্য’ বলতে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তি, জনসাধারণ, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত, প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ বা প্রচার করা হয়।

আরও পড়ুন:  অস্ত্র-মাদক সংঘাতে রক্তাক্ত খুলনা | Amar Bangla BANGLADESH


সংশোধিত আইনের ২৫ নম্বর ধারায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। সেখানে মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন–সংক্রান্ত অপরাধের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। খসড়া অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস, অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কোনো তথ্যের মাধ্যমে অন্য কারও মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করেন, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


এ ছাড়া কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের তথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মানহানির ব্যাখ্যায় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।


সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচার রোধে আইনটি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ‘জেনোসাইড’ : চিফ প্রসিকিউটর


তবে সংশোধিত আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা ও ভাষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনবিশেষজ্ঞদের একটি অংশ। তাদের মতে, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-এর মতো শব্দের সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড না থাকলে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে এবং অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আইনটি সংশোধনের বিষয়ে সরকারের ভেতরেও ভিন্নমত রয়েছে। এক পক্ষ সংশোধনের পক্ষে মত দিলেও অন্য পক্ষের আশঙ্কা, নতুন বিধান যুক্ত হলে আইনটির অপপ্রয়োগ, সমালোচনা এবং আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।


এ বিষয়ে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল রাইটস’–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, সংশোধনের মাধ্যমে সরকার আবারও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময়কার কঠোর আইনি কাঠামোর দিকে ফিরে যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন উঠতে পারে। তার মতে, আইনটি বর্তমান খসড়া অনুযায়ী পাস হলে অপপ্রয়োগের আশঙ্কা থাকবে এবং অনলাইন স্বাধীনতার বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


সূত্র : প্রথম আলো


আমার বাঙলা/ জামান

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment