---Advertisement---

ভারত থেকে কোরিয়া: ছড়িয়ে ১০ হাজার কিলোমিটার ঘন মেঘের সরণি, তুলকালাম বৃষ্টি আসছে

By Suman Debnath

July 23, 2026 8:30 PM

ভারত থেকে কোরিয়া: ছড়িয়ে ১০ হাজার কিলোমিটার ঘন মেঘের সরণি, তুলকালাম বৃষ্টি আসছে

---Advertisement---


আকাশপথে যেন একটানা মেঘের সেতু। উত্তর ভারত থেকে শুরু করে হিমালয় পেরিয়ে চিন হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত প্রায় সাত থেকে দশ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এক মেঘের বলয় (Monsoon Convergence Zone) ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর (Southwest Monsoon) সবচেয়ে সক্রিয় পর্বের মধ্যে অন্যতম এটি। ভারত মহাসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পে ভরপুর বাতাস এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা উষ্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এই বিরাট মেঘের করিডোর।

কী বলছে উপগ্রহ চিত্র

আলোচিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মধ্য, উত্তর ও পূর্ব ভারত জুড়ে ঘন মেঘের আস্তরণ ছড়িয়ে রয়েছে, যা হিমালয় অঞ্চল পেরিয়ে চিন এবং জাপান হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। গত দু’দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের একাংশ এই পর্বকে বলছেন মরসুমের সবচেয়ে সক্রিয় পর্ব, যেখানে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিক গড়কে বহুগুণ ছাপিয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন:  পুরীর রথযাত্রায় দুই ভক্তের মৃত্যু, সাময়িক বন্ধ উৎসব! পদপিষ্টের দাবি উড়িয়ে দিল ওড়িশা সরকার

বাড়ছে বিপদ

উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর এবং রাজস্থানের কিছু অংশে ইতিমধ্যেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতেও বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে জোরালো বৃষ্টিপাত চলছে। তবে এই সক্রিয় বর্ষার পর্ব যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই উদ্বেগও বাড়াচ্ছে। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে আকস্মিক বন্যা, ধস এবং নদীর জল বিপদসীমা ছাড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব

আবহাওয়া দপ্তরের (India Meteorological Department অর্থাৎ IMD) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে আগামী তিন থেকে চার দিন মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে, সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার (৪০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে) পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  সিজেপি আন্দোলনে বিদেশি অর্থের অভিযোগ, এনআইএ তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দিল্লি হাইকোর্ট

সুখবর

এই সক্রিয় বর্ষা মরসুমের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা। চাষাবাদের জন্য এই বৃষ্টিপাত সহায়ক হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে পূর্বাভাসে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যা এবং নিচু এলাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এশিয়া জুড়ে আবহাওয়ার এই আন্তঃসংযোগ একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে শুধু আঞ্চলিক ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং এটি আরব সাগর থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এক বৃহত্তর বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহেরই অংশ।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment