ক্যান্সারের ওষুধের খুচরো বিক্রয়মূল্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের 

By Suman Debnath

September 29, 2026 9:05 PM

ক্যান্সারের ওষুধের খুচরো বিক্রয়মূল্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের 


ক্যান্সারের ওষুধের পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরো দামে বিপুল ফারাক নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। একটি ক্যান্সারের ওষুধ খুচরো বিক্রেতাকে ২৭০০ টাকায় সরবরাহ করা হলেও তার সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা এমআরপি ২৭ হাজার টাকা কেন, মঙ্গলবার ফের সেই প্রশ্ন তুলেছে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ। এই বিপুল দামের ফারাক থেকে কারা লাভবান হচ্ছে, তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত।

২০১৩ সালের ড্রাগস প্রাইসেস কন্ট্রোল অর্ডার বা ডিপিসিও-র অধীনে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক ওষুধের ব্যবস্থাপত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কয়েকটি আবেদনের শুনানি চলছে শীর্ষ আদালতে। আগের শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে ২৭০০ টাকা পিটিআর এবং ২৭ হাজার টাকা এমআরপির এই ফারাকের বিষয়টি উঠে আসে।

মঙ্গলবার বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেন, ‘দামের বিপুল পার্থক্যটা শুধু দেখুন।’ এরপরেই বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, ‘এই দশ গুণ মূল্যবৃদ্ধি কেন? এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় যায়? এতে কার লাভ হচ্ছে?’ ওষুধের দাম নির্ধারণে একটি অভিন্ন নিয়ম করা যায় কি না তা নিয়েও কেন্দ্রকে প্রশ্ন করেছে আদালত। বেঞ্চের বক্তব্য, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ক্ষেত্রে খুচরো বিক্রেতার লাভের সীমা ১৬ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম রয়েছে। তা হলে অন্য ওষুধের ক্ষেত্রেও পিটিআর-এর উপর ভিত্তি করে এমআরপির ক্ষেত্রে একই ধরনের সীমা রাখা যাবে না কেন, তা জানতে চেয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:  রথযাত্রা উপলক্ষে পুরী সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ডদের বিশেষ ব্রিফিং, পর্যটকদের নিরাপত্তায় জোর পুলিশের

কর্পোরেট হাসপাতালগুলির নিজস্ব ফার্মেসি থেকে রোগীদের ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেঞ্চ। আদালত কেন্দ্রকে রোগীদের নিজেদের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে এমন হাসপাতালগুলির বিষয়ে খোঁজ নিতে বলেছে। বিচারপতিদের বক্তব্য, সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় কোনও রোগীর চিকিৎসা হলে ওষুধের অতিরিক্ত দামের বোঝা শেষ পর্যন্ত সরকারি অর্থের উপরও পড়ে, অর্থাৎ করদাতাদের উপর তার প্রভাব পড়ে।

আবেদনকারীর পক্ষের দাবি, তালিকাভুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে দামের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তালিকাভুক্ত নয় এমন ওষুধের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকদের এমআরপি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা রয়েছে। এই ধরনের ওষুধ বাজারের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, এর ফলে চিকিৎসার খরচ বেড়ে গিয়ে রোগীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে টাটা সন্সে সংঘাত প্রকাশ্যে

আরও পড়ুন: আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ না বুঝলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে, আমেরিকাকে বার্তা জয়শঙ্করের 

কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের বক্তব্য জানানো হবে। তাঁর বক্তব্য, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন যাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য থাকে। এই মামলায় পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর। ওষুধের দাম নির্ধারণ এবং চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলি পরবর্তী শুনানিতে আরও খতিয়ে দেখবে আদালত।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment