ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার একদিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব বুঝে নিলেন প্রহ্লাদ যোশী। রবিবার দিল্লির শাস্ত্রী ভবনে অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপরই শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রহ্লাদ বলেন, শিক্ষা তাঁর কাছে নতুন বিষয়। তাই মন্ত্রকের কাজকর্ম ও বর্তমানে মন্ত্রকে চলা প্রকল্পগুলি ভালোভাবে বুঝে নিয়েই তিনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে প্রহ্লাদ লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। বিনয় ও গভীর কর্তব্যবোধের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান যোশী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রক অত্যন্ত বড় একটি দপ্তর। ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানাবেন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরই প্রহ্লাদ যোশীকে তাঁর বর্তমান দপ্তরের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।
রবিবার যোশী আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রকের একটি পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ও অন্যান্য উদ্যোগের মূল্যায়ন করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত যোশী, এবং স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব টি কে অনিল কুমার। এছাড়াও বৈঠকে অংশ নেন মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিটের প্রশ্নফাঁস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ চলছিল। সেই আবহেই শুক্রবার তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি এই আন্দোলনকে অন্য কোনও শক্তি যাতে ভিন্ন দিকে পরিচালিত করতে না পারে সেই কারণেও তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএর একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। নিটে অনিয়মের অভিযোগে ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। সর্বোপরি কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নিয়েছে।তাতে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। নতুন শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং ছাত্রছাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধার কতটা সম্ভব হয় এখন আপামর জনতার নজর সেদিকেই থাকবে।
Leave a Comment