---Advertisement---

আপনি কি ‘উমর খালিদকে মুক্তি দাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন? গোয়ায় আন্দোলনকারীদের ২৪০টি প্রশ্ন পুলিশের

By Suman Debnath

July 30, 2026 4:00 PM

আপনি কি ‘উমর খালিদকে মুক্তি দাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন? গোয়ায় আন্দোলনকারীদের ২৪০টি প্রশ্ন পুলিশের

---Advertisement---


নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভের জেরে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে গোয়া পুলিশ। মাপুসায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২ জন আন্দোলনকারীকে থানায় ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের প্রায় ২৪০টি প্রশ্নের উত্তর লিখে দিতে হয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গত ২৪ জুলাই মাপুসায় নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং প্রশ্নফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্তই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বিক্ষোভ চলাকালীন এক ব্যক্তির হাতে ‘উমর খালিদকে মুক্তি দাও’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড দেখার পরেই গোটা ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় একটি সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ২ জন আন্দোলনকারীকে পরে থানায় ডেকে পাঠায়। সেখানে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিক্ষোভের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন? আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার তৈরির খরচ কে বহন করেছে? এমনকি তাঁরা ‘উমর খালিদকে মুক্তি দাও’ স্লোগান দিয়েছেন কি না? দিলে কতবার দিয়েছেন ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:  ADR-এর তালিকায় দেশের অন্যতম কম সম্পদশালী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! কত সম্পত্তি রয়েছে? শীর্ষে কে?

শুধু তাই নয়, সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও স্লোগান দেওয়া হয়েছিল কি না, আগে অন্য কোনও ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন কি না কিংবা উমর খালিদের মুক্তির দাবিকে তাঁরা কীভাবে দেখেন— এমন নানা প্রশ্নও করা হয়। ‘উমর খালিদের মুক্তি’ বলতে তাঁরা কী বোঝেন, তাও জিজ্ঞাসা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

উল্লেখ্য, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদ এখন অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ আইনে জেলে বন্দি রয়েছেন। ২০২০ সালের দিল্লি হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক এবং ‘উজ্জ্বল’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান আমরিন শেখও অভিযোগ করেছেন, তাঁকেও প্রায় ২৫০টি হাতে লেখা প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এরপরও তাঁকে বারবার থানায় ডেকে একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।

আমরিন শেখের বক্তব্য, তিনি কোনও বিতর্কিত প্ল্যাকার্ড বহন করেননি। তাঁদের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল শুধু নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার রক্ষার দাবি তোলা। তিনি স্পষ্ট জানান, এই কর্মসূচি সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না। উমর খালিদের সঙ্গে তাঁর বা আয়োজকদের কোনও সম্পর্ক নেই। এদিকে, ‘উমর খালিদকে মুক্তি দাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করার অভিযোগে পূর্ব দিল্লির বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে আটক করে গোয়া পুলিশ। পুলিশের দাবি, পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকার করেছিলেন। পরে তাঁকে আটকের প্রতিবাদে গোয়া পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভও হয়।

আরও পড়ুন:  সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ! নাবালক ও প্রথমবার অভিযুক্ত নিট আন্দোলনকারীদের মুক্তির নির্দেশ, কেন্দ্র-সহ ৭ রাজ্যকে নোটিস

উত্তর গোয়ার পুলিশ সুপার হরিশ্চন্দ্র মদগইকর জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তদন্তে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা হয়। তবে ঠিক কতগুলি প্রশ্ন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তও। তিনি বলেন, ‘নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু সেই আন্দোলনকে অন্য রাজনৈতিক বা আদর্শগত ইস্যুর সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।’ তাঁর দাবি, ‘উমর খালিদকে মুক্তি দাও’ বার্তা কেন ওই বিক্ষোভে এল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment