---Advertisement---

প্রশিক্ষণের মধ্যেই সিনিয়রের লালসার শিকার ট্রেনি IPS অফিসার, অপমানে নিজেকে শেষের সিদ্ধান্ত

By Suman Debnath

July 21, 2026 3:20 PM

প্রশিক্ষণের মধ্যেই সিনিয়রের লালসার শিকার ট্রেনি IPS অফিসার, অপমানে নিজেকে শেষের সিদ্ধান্ত

---Advertisement---


দেশের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পুলিশ প্রশিক্ষণকেন্দ্র সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাকাডেমি (Sardar Vallabhbhai Patel National Police Academy)। সেখানেই যৌন হেনস্থার অভিযোগে জড়িয়ে পড়লেন এক প্রশিক্ষণরত আইপিএস (IPS) অফিসার। অভিযোগ ওঠার একদিনের মধ্যেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দাবি, আপাতত হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। ঘটনার জল গড়িয়েছে অনেক দূর, পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে গোটা বিষয়টি সত্যিই আত্মহত্যার চেষ্টা, নাকি তদন্তকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল।

কী অভিযোগ

অভিযুক্তের নাম উদয় কৃষ্ণ রেড্ডি (Uday Krishna Reddy)। কর্নাটক ক্যাডারের এক ৩০ বছর বয়সি বিবাহিতা মহিলা আইপিএস প্রবেশনার গত ১৮ জুলাই আট্টাপুর থানায় (Attapur Police Station) তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, গত ২৩ জুন থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তাঁকে হেনস্থা করে চলেছিলেন উদয়। মহিলার দাবি, তাঁকে অশালীন বার্তা পাঠানো হত হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp), সহপ্রশিক্ষণার্থীদের সামনে অবমাননাকর মন্তব্য করা হত, এমনকি তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা রটনাও ছড়ানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জোর করে তাঁর মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড আদায় করে ব্যক্তিগত মেসেজ ঘেঁটে দেখার অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, তাঁর অনুমতি ছাড়াই একটি ব্যক্তিগত ভিডিয়ো তৈরি করে তা মহিলার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করেন উদয়। এফআইআরে (FIR) ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অ্যাকাডেমির অভ্যন্তরীণ তদন্ত

অভিযোগ ওঠার পরপরই অ্যাকাডেমির অভ্যন্তরীণ কমিটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং অভিযোগকারিণীর বয়ান খতিয়ে দেখে। সূত্রের খবর, তদন্তে অভিযোগের সারবত্তা মেলে বলে জানা গিয়েছে, যার জেরে উদয়কে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ থেকে। এই সাসপেনশনের খবর প্রকাশ্যে আসার পরদিনই ঘটে যায় নাটকীয় মোড়।

আরও পড়ুন:  শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, আজ রাজ্যে একাধিক কর্মসূচিতে অমিত শাহ

আত্মহত্যার চেষ্টা

সোমবার সকালে হায়দরাবাদের মতিনগরে নিজের এক আত্মীয়ের বাড়িতে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় উদয়কে। পরিবারের দাবি, তিনি কোনও পানীয় গ্রহণ করেছিলেন, যার পরই জ্ঞান হারান। দ্রুত তাঁকে এসআর নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছিলেন তাঁর অবস্থা সংকটজনক। তবে পরে জানা যায়, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল। পুলিশ সূত্রে খবর, রক্ত ও মূত্রের প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনও বিষ বা মাদকের হদিশ মেলেনি, তবে অতিরিক্ত মদ্যপানের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ঠিক এই কারণেই তদন্তকারীরা এখন দু’টি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন, সত্যিই কি তিনি জীবন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, নাকি অভিযোগের তদন্ত ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছিল এটি।

চাঞ্চল্যকর ‘সুইসাইড নোট’

ঘটনার পর উদয়ের হাতে লেখা একটি দুই পাতার চিঠি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই চিঠিতে তিনি নিজের এই পদক্ষেপের জন্য চার জনকে দায়ী করেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন অভিযোগকারিণী মহিলা এবং তাঁর স্বামীও। চিঠিতে উদয়ের দাবি, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর সম্মতিসূচক সম্পর্ক ছিল, যা মহিলার বিয়ের পরেও অব্যাহত ছিল বলে দাবি তাঁর। তিনি আরও লেখেন, গত ৯ জুলাই ওই মহিলা নিজেই তাঁর ঘরে গিয়েছিলেন এবং সমস্ত ঘটনার প্রমাণ তাঁর মোবাইলে সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেন তিনি। উদয়ের অভিযোগ, বাকি দুই সহপ্রশিক্ষণার্থী তাঁর বিরুদ্ধে ওই মহিলাকে প্ররোচিত করেছিলেন। তবে এই চিঠির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ, এবং পুলিশ এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি এই বিষয়ে।

আরও পড়ুন:  আমদাবাদে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত অন্তত ৮, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু শ্রমিকের আশঙ্কা

তদন্তের অভিমুখ

অভিযোগ দায়েরের আগে সমাজমাধ্যমে (Social Media) একটি পোস্টে উদয় নিজে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা এখন তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে (Forensic Science Laboratory) পাঠিয়েছেন। অভিযোগকারিণী, উদয় এবং তাঁদের সহপাঠীদের বয়ানও পর্যায়ক্রমে রেকর্ড করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, কারণ বিষয়টি একদিকে যেমন যৌন হেনস্থার অভিযোগ, অন্যদিকে তেমনই একজন প্রশিক্ষণরত পুলিশ অফিসারের আত্মহত্যার চেষ্টার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে এর সঙ্গে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

হায়দরাবাদের এই ঘটনা রাজ্যের বাইরে হলেও, কর্মক্ষেত্রে মহিলা পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে দেশজুড়ে নানা সময়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার আঁচ পশ্চিমবঙ্গেও অনুভূত হচ্ছে। রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই থানাগুলিতে উইমেন হেল্প ডেস্ক (Women Help Desk) চালু করে অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্ত করার এবং প্রয়োজনে জিরো এফআইআর (Zero FIR) নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত পরিসরেও যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কাঠামোয় লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা (Gender Sensitisation) সংক্রান্ত নজরদারি আদৌ কতটা মজবুত।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment