---Advertisement---

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

By Suman Debnath

July 27, 2026 6:20 PM

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

---Advertisement---


বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত আপাতত থেমে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

 

তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জ্বালানি বাজারে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা।

 

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৪ ডলারে লেনদেন হয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত স্থগিত হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির যে সমঝোতা হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘাতে তা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। নতুন করে বড় ধরনের হামলা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরেছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।

 

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও অত্যন্ত সীমিত।

আরও পড়ুন:  বদলে আরও ভয়ংকর ডেঙ্গু উপসর্গ

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের পর্যবেক্ষণ করা শিপিং তথ্যানুযায়ী, সপ্তাহান্তে এই প্রণালী দিয়ে ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত।

 

এদিকে বাজারে আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালী। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালাতে পারে- এমন আশঙ্কা জোরালো হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বিঘ্নের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

জার্মানির বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, হুথিদের হামলার ঝুঁকি একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের জ্বালানি রফতানি পথকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

 

তাদের ভাষ্য, প্রধান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আপাতত থেমে থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। কারণ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যা যেকোনও সময় নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

আরও পড়ুন:  স্বার্থান্বেষীদের রক্ষা অগ্রহণযোগ্য: ইশরাক | Amar Bangla BANGLADESH

 

অন্যদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক উভয়ই ১ শতাংশ করে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

 

ইউরোপেও বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। প্যান-ইউরোপীয় স্টক্স ৬০০ সূচক প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার খোলার আগেই ফিউচার্স লেনদেনে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ডাও জোন্স ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ন্যাসডাক ফিউচার্স ১ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির কারণে আপাতত তেলের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। বিশেষ করে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব- বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় তেলের বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে নতুন কোনও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন

 

পূর্বকোণ/রেহেনুমা /পারভেজ

শেয়ার করুন

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment