জামায়াতের এমপির বিয়ে, ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ !

By Suman Debnath

July 22, 2026 10:45 AM

জামায়াতের এমপির বিয়ে, ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ !


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মরিয়ম খাতুন নামের তরুণীটিকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তবে তার এই দাবি ও প্রকাশ্যে আসা বিয়ের কাবিননামা নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।


খোদ কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজী জানিয়েছেন, এই বিয়ে কবে বা কোথায় সম্পন্ন হয়েছে তা তিনি জানেন না। ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।


সম্প্রতি ঢাকার মগবাজারের একটি শয়নকক্ষ থেকে সিসিটিভি ও মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা গাজী নজরুল ইসলামের কিছু আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে এমপি নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং কনের বাবা মাসুম বিল্লাহ আলাদা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান যে, পারিবারিকভাবে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন:  কাশি নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা


তবে কাবিননামায় উল্লেখিত শ্যামনগর থানার ১২ নং গাবুরা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা বি এ এম বাকী বিল্লাহর বক্তব্য এই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বীকার করেন, ১৭ জুন বিয়ের কথা বলা হলেও এই বিয়ে কোথায় হয়েছে তিনি জানেন না। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে ঢাকায় বিয়ে হয়েছে এবং তাকে এটি নিবন্ধন করতে হবে।


কনের নাম ও জন্ম তারিখের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কাজী দাবি করেন, প্রয়োজনীয় তথ্য তাকে ফোনে জানানো হয়েছিল এবং সেই তথ্য অনুযায়ীই কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়। তিনি আরও বলেন, কনের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩ মাস।

আরও পড়ুন:  সবুজ হারাচ্ছে ঢাকা, বাড়ছে তাপের ঝুঁকি


কাজী বলেন, কনের বাবা ফোনে কথা বলে সম্মতি দিয়েছেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে কনে ও তার অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। বিয়ের তারিখ ১৭ জুন দেখানোর বিষয়টিও তাকে ফোন করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘাবড়ে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের বিপদে ফেলা হয়েছে, আমি যাতে বিপদে না পড়ি’ এ কথা বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


জামায়াতের এই প্রবীণ সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধার এমন ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


আমার বাঙলা/ হুমায়রা

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment