শিবিরের অভিযোগ: “ছাত্রলীগকে ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদলের চক্রান্ত”, রাবিতে দিনভর উত্তেজনা, আহত ৪

By Suman Debnath

July 28, 2026 3:55 PM

শিবিরের অভিযোগ: “ছাত্রলীগকে ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদলের চক্রান্ত”, রাবিতে দিনভর উত্তেজনা, আহত ৪


শিবিরের অভিযোগ: “ছাত্রলীগকে ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদলের চক্রান্ত”, রাবিতে দিনভর উত্তেজনা, আহত ৪


রাজশাহী প্রতিবেদক: ছাত্রলীগকে ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল চক্রান্ত করছে – বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এমন অভিযোগের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। রাকসু ভবন থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের রিডিং রুম পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও বিক্ষোভে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আনাস ও সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ ৪ জন আহত হয়েছেন।

বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারীঘটিত এক অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে তার মোবাইল তল্লাশি করে তাকে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তার অনুসারীরা। উত্তপ্ত বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়।

প্রক্টর দপ্তর সূত্র জানায়, রোববার রাতে সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রক্টর দপ্তরে আসেন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাস। এ সময় প্রক্টরের সঙ্গে তার বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে তাকে দপ্তর থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।

আরও পড়ুন:  সমুদ্রপথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্রের চালান, সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র

সোমবার দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে মহসিন আলমের বক্তব্য নিতে তাকে ফের তলব করা হয়। এ সময় আনাসও সেখানে উপস্থিত হন এবং আবারও প্রক্টরের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান। পরে ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগে আনাসকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রক্টর দপ্তরে আসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পুলিশ তাকে আটক করেনি।

এর কিছুক্ষণ পর আনাস ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী নিয়ে রাকসু ভবনে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন। পরে উভয় পক্ষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে যায়। সেখানে আনাস ও তার সঙ্গীরা রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে ঢুকে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে আনাস ও সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসান আহত হন।

আরও পড়ুন:  শিরোপার লড়াইয়ে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর ও জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। আহত আনাসকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘সেইফ এক্সিট’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ। কয়েক ঘণ্টা পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে শিবির, রাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দের বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে উপাচার্য বলেন, খুব দ্রুত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

হামলার শিকার আনাস দাবি করেন, তিনি ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন। বন্ধুদের সাথে ছবি থাকতে পারে, কিন্তু ছাত্রলীগের ব্যানার-ফেস্টুনে আমার কোনো ছবি নেই। আমার ওপর ২০০ বারের বেশি আঘাত করা হয়েছে।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রদলের সাথে থাকা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। আমরা প্রশাসনকে তাদের পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment