---Advertisement---

ঈশ্বরদীতে ২৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় শোকজ

By Suman Debnath

July 31, 2026 2:31 PM

ঈশ্বরদীতে ২৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় শোকজ

---Advertisement---


মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা এবং একাডেমিক তদারকিতে অবহেলার অভিযোগে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের শিখনফল ও কাঙ্ক্ষিত অর্জন নিশ্চিত করতে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন না করায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।


ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহীনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৬ জুলাই ২৩টি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের কাছে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ২ আগস্টের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জবাব সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ফতেমোহাম্মদপুর, ইস্তা, মশুরিয়াপাড়া গোলাম হোসেন, মধ্য অরণকোলা, নিকরহাটা, দাশুড়িয়া, সরাইকান্দি, জোবেদা খাতুন সাবান আলী, আথাইল শিমুল, আটঘরিয়া, চরসাহাপুর, তিলকপুর, চরকুড়ুলিয়া, বাঁশেরবাদা, সুতানদ, ছলিমপুর, চরছলিমপুর, কদিমপাড়া, ৬৩ নম্বর নতুন রূপপুর, ৭৬ নম্বর জগন্নাথপুর, ৭৪ নম্বর জয়নগর এবং ৯৪ নম্বর চররূপপুর নওদাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:  তিন দিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম



ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং পড়া, ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ এর মৌলিক নিয়ম এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীলভাবে ইংরেজি রিডিং পড়তে পারা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।


কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উপজেলার ১০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩টি বিদ্যালয় লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাই শিক্ষা বিভাগ বিদ্যালয়গুলোর সব শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেছে।



ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহীনা আক্তার স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লাস্টারের ৩০ জুন পর্যন্ত এফএলএন সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করে দেখা যায় যে, বিদ্যালয়গুলো কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি। বিদ্যালয়গুলো মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা, জ্ঞানের হার শতকরা ৫০ এর নিচে। জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের গ্রহণ করা পদক্ষেপসমূহ ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবজ্ঞার কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে প্রতীয়মান।

আরও পড়ুন:  সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী



নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এফএলএন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের শিখন-অর্জন নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক উদ্যোগ গ্রহণে দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ব্যাখ্যা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণসহ আগামী ২ আগস্টের মধ্যে কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদান করতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহীনা আক্তার এ বিষয়ে বলেন, জেলা প্রাথমিক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা পালনে উপজেলার ২৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ব্যর্থ হয়েছেন। নোটিশের জবাব ২ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। জবাব পাওয়া গেলে তা দ্রুত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। জেলা কর্মকর্তা জবাব অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


আমার বাঙলা/ রাব্বি



---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment