ছাত্র আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। এর পরই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক (Abhijit Deepak) ফোন করে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে সমর্থন ও পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ জানান। আন্দোলনের সমাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত দিল্লি সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর শিক্ষাক্ষেত্র-সংক্রান্ত একাধিক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় CJP। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা করা হয়। তৃণমূল সূত্রের দাবি, সেই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই, শনিবার রাত প্রায় ৮টা ৫৫ মিনিটে অভিজিৎ দীপক ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রায় তিন মিনিটের ওই কথোপকথনে তিনি ছাত্র আন্দোলনের পাশে থাকার জন্য তৃণমূল নেত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া সমর্থন ও পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তৃণমূলের দাবি, ফোনালাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন। আন্দোলনের সময় যেভাবে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন, তার প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সোমবার দিল্লি যাওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের মঞ্চ থেকেও তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু আন্দোলন প্রত্যাহার এবং দাবিগুলি পূরণ হওয়ার পর সেই সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহের সূচনা হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের মাধ্যমে। শনিবার সকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠান। পরে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা তাঁর কাছে সর্বাগ্রে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রথম দিন থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন বলেও জানান।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কিছু দেশবিরোধী শক্তি পরিস্থিতিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছিল। সেই পরিস্থিতির সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে, সেই কারণেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনকারীদের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার এবং আত্মহত্যা করা ছাত্রদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে CJP দাবি করেছে। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনের অবসানের ফলে আপাতত দিল্লি সফর বাতিল করলেও, ছাত্রদের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দাবির পাশে ভবিষ্যতেও থাকার বার্তা দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্যদিকে, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে CJP কী ভূমিকা নেবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Leave a Comment