১৯ জুলাইয়ের ফেসবুক লাইভে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মদন মিত্রকে ১০ কোটি টাকার আইনি নোটিস। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মামলা করার হুঁশিয়ারি।
কলকাতা: বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পর ফেসবুক লাইভে করা মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার অভিযোগে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)-কে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সন্তোষজনক জবাব না মিললে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—দুই ধরনের আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আইনজীবীর মাধ্যমে ইমেল ও স্পিড পোস্টে পাঠানো ওই আইনি নোটিসে দাবি করা হয়েছে, ১৯ জুলাই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রায় আট মিনিটের একটি লাইভ সম্প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন মদন মিত্র। অভিযোগ, সেই বক্তব্যে সাংসদকে ‘ক্রিমিনাল’ এবং ‘খুনি’ বলে উল্লেখ করা হয়।
নোটিসে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধু ওই মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি মদন। তিনি নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘সুপারি’ দিয়ে খুন করানোর মতো অভিযোগও প্রকাশ্যে করেছিলেন। আইনজীবীদের বক্তব্য, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া এবং বিদ্বেষপ্রসূত, যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
আইনি নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ধারাবাহিক তিনবারের নির্বাচিত ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসমক্ষে একটি প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তি রয়েছে। সেই ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মদন মিত্রকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণের অর্থ কোনও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হবে না। একটি নিবন্ধিত ট্রাস্টে সেই অর্থ জমা রেখে দলত্যাগ সংক্রান্ত আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের কাজে তা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবশেষে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না এলে মদন মিত্র এবং তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ক্ষেত্রেই নতুন মাত্রা পেতে পারে।









Leave a Comment