কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের পর প্রথমবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ছাত্র আন্দোলনের আবহে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party – BJP)-র কাছে কোনও মন্ত্রিত্ব বা পদ নয়, দেশের স্বার্থ, যুবসমাজ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারের শিক্ষা সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন।
শনিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে অমিত শাহ বলেন, বিজেপির আদর্শেই দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখা হয়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সেই নীতিরই প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অমিত শাহ আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় কঠোর সংস্কার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যে পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও তাঁর দাবি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি বিশেষ করে NEET-সহ বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রীত্বের সময়কার কাজেরও প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক ভাষায় পরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, PM SHRI Schools-এর উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এছাড়া পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলার ক্ষেত্রেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, তাঁর কার্যকাল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও উন্নত করার লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান ধর্মেন্দ্র প্রধান। পরে সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা তাঁর কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তিনি শুরু থেকেই নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন।
পদত্যাগের বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কিছু দেশবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই পরিস্থিতিতে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা অপব্যবহারের সুযোগ না দিতেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং তার পর অমিত শাহের এই বার্তা কেন্দ্রের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলার বিষয়টিকেও বিজেপি নেতৃত্ব অগ্রাধিকার দিচ্ছে—এমন বার্তাই সামনে এসেছে।
Leave a Comment