Kalyan Banerjee on Abhishek Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের মতবিরোধ ফের প্রকাশ্যে এল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ থেকেই দলের সাংগঠনিক ক্ষয়ের শুরু, আর তারই ফল আজ ভুগতে হচ্ছে তৃণমূলকে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্র করেই এমন এক সাংগঠনিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে বহু নেতা-কর্মী সমস্যায় পড়েছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যাঁরা দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তাঁদের অনেকেই একসময় অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়-এর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, সংগঠনের নানা বিষয়ে যাঁরা সুমিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তাঁদের অনেকেই এখন প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়ছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সুমিত রায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, একসময় আইপ্যাক (I-PAC) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে অনেক নেতা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর তাঁরাই এখন অভিষেকের সমালোচনায় সরব হয়েছেন।
তাঁর কথায়, “যাঁরা আইপ্যাকের সুবিধা নিয়েছেন, নিজেদের অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়েছেন, তাঁরাই আজ সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করছেন।”
এছাড়া বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে আইপ্যাক এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তিনি বলেন, অতীতে আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানালেও তখন দলের ভিতরে তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য অভিষেকের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে দায়ী করেছেন।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দলের তরফে সম্ভাব্য জবাব এবং এই বিতর্কের পরবর্তী পর্বের দিকে।
Leave a Comment