অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অনুব্রত মণ্ডল-বাড়তি নিরাপত্তা কমানো হয়েছিল। এবার দীর্ঘদিনের সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর নিরাপত্তা কমে যাচ্ছে বলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কোনও পদে না থেকে কেন অধীর ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন? এই প্রশ্ন তুলেছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কমল অধীররঞ্জন চৌধুরীর নিরাপত্তা। আগে অধীর চৌধুরী ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। এখন এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন বলেই সূত্রের খবর।
এদিকে অধীর চৌধুরী এখন সাংসদ নন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ইউসুফ পাঠানের কাছে। রাজ্যসভার সাংসদও তাঁকে করেনি কংগ্রেস। দলের কোনও বড় পদেও নেই একদা বহরমপুরের রবিন হুড। তাই এখনও তিনি বাড়তি নিরাপত্তা পাবেন কেন? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। আগে অধীর চৌধুরী সাংসদ থাকাকালীন ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। সেটা সাংসদ না থাকার সময়ও চলে আসছিল। পাঁচজন জওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করতেন অধীর।
অন্যদিকে নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদ পদ না থাকলে নিরাপত্তাও কমে যাবে। কিন্তু সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন অধীর চৌধুরী। ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তাই পেয়ে যাচ্ছিলেন। আর তাই নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অধীরের ‘আঁতাঁত’ আছে বলেও সুর চড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের স্বার্থে অধীর বিজেপি বিরোধীতা করেন না বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিনিময়ে এমন নিরাপত্তা পান বলেই অভিষেকের অভিযোগ ছিল। তবে দেখা যায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছিল তাঁর। সেটা নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। এবার হঠাৎ সেই বাড়তি নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হলো। তাঁর নিরাপত্তা আচমকা প্রত্যাহারের নেপথ্যে রাজনীতি থাকতে পারে বলে মনে করছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তাছাড়া এখন প্রদেশ কংগ্রেসের কোনও পদেও নেই অধীর চৌধুরী। সুতরাং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা কমে যাওয়াই দস্তুর। শুক্রবার এই নিরাপত্তা কমে যাওয়া নিয়ে প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘কমেছে নাকি বেড়েছে সেটা আমি জানি না। আগেও কয়েকজন থাকত। এখনও পর্যন্ত দেখছি আছে। বাকিটা আমার জানা নেই। তবে আমি কোনওদিন কারও কাছে নিরাপত্তা চাইনি।’ তবে এদিন মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Leave a Comment