---Advertisement---

‘ই ২০’ পেট্রলে একটি গাড়িও নষ্ট হলে জানান, সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ নীতিন গড়করির

By Suman Debnath

July 10, 2026 9:00 AM

‘ই ২০’ পেট্রলে একটি গাড়িও নষ্ট হলে জানান, সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ নীতিন গড়করির

---Advertisement---





দেশজুড়ে ইথানল মিশ্রিত ‘ই ২০’ পেট্রল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি দাবি করেছেন, ই ২০ জ্বালানির কারণে দেশের একটি গাড়িরও ক্ষতি হয়েছে – এমন কোনও প্রমাণ নেই। বরং এই নিয়ে যে প্রচার চলছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ‘পেড ক্যাম্পেন’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকশিত ভারত কনক্লেভ-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়করি বলেন, ‘ই ২০ পেট্রল ব্যবহার করে যদি একটি গাড়িও খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে জানান।’ তাঁর দাবি, মানুষের মধ্যে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ স্বার্থে কিছু মহল এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:  শিশুবিবাহে ধর্ম নয়, আইনের শাসনই চূড়ান্ত— মুসলিম ব্যক্তিগত আইন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাই কোর্টের

সম্প্রতি অনেক গাড়িচালক এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করেছেন, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে গড়করি এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ই ২০ জ্বালানির কারণে গাড়ি নষ্ট হওয়ার একটি ঘটনাও এখনও সামনে আসেনি।

ভারত ইতিমধ্যেই পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে, বায়ুদূষণ কমবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন। আখ, ভুট্টা ও চালের মতো কৃষিপণ্য থেকে তৈরি ইথানল ব্যবহার করে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, গড়করির পরিবারের চিনিকলের ব্যবসার স্বার্থেই তিনি ইথানল নীতির পক্ষে সওয়াল করছেন। এদিন সেই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের কিছু চিনিকল থাকলেও তাদের ব্যবসা ইথানল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে সরকারি নীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন:  কাশ্মীরে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে খতম ২ জঙ্গি, নিহতদের মধ্যে লস্করের শীর্ষ সদস্য জাকির গনি

ইথানল নীতির সুফলের উদাহরণ হিসেবে ভুট্টার দাম বাড়ার কথাও তুলে ধরেন গড়করি। তাঁর দাবি, ইথানল উৎপাদনের সিদ্ধান্তের আগে বাজারে ভুট্টার দাম ছিল প্রতি কুইন্টাল প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। এখন সেই দাম বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কৃষকদের আয়ও অনেকটাই বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ই ২০ নিয়ে বিতর্ক চলার মধ্যেই বাজারে ই ২৫ জ্বালানি চালুর জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রে খবর, আপাতত ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেশানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হবে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment