---Advertisement---

সোনামুড়ায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১২৯.৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা!

By Suman Debnath

June 14, 2026 9:31 PM

সোনামুড়ায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১২৯.৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা

---Advertisement---

সোনামুড়া, ১৪ জুন: মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে সোনামুড়া থানার পুলিশ। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে সোনামুড়া থানাধীন কমলনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজার মোট পরিমাণ ১২৯ কেজি ৮০০ গ্রাম বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় মাদক পাচার ও মাদক মজুদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পুলিশের কাছে আসছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে সোনামুড়া থানার ওসি তাপস দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। অভিযানে অংশ নেন থানার একাধিক পুলিশ আধিকারিক, কর্মী এবং টিএসআরের জওয়ানরা। রাতের অন্ধকারেই সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ।

তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর আগাম পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ফলে অভিযানের সময় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তল্লাশি অভিযানের এক পর্যায়ে বাড়ির একটি ঘরের মাটির নিচে অস্বাভাবিক কিছু চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরপর সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হয়। কিছুক্ষণ পর মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় তিনটি বড় ড্রাম উদ্ধার হয়। ড্রামগুলো খুলে দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা।

আরও পড়ুন:  ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় জলবন্দি দক্ষিণ মহেশপুর, তিন মাস ধরে বাড়িছাড়া বাসিন্দা!

পুলিশ পরবর্তীতে ওজন করে দেখে মোট ১২৯ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এত বড় পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই গাঁজা স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য নয়, বরং বৃহত্তর মাদক পাচার চক্রের মাধ্যমে অন্যত্র সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল।

অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া সমস্ত মাদকদ্রব্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে তা জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সোনামুড়া থানার ওসি তাপস দাস সাংবাদিকদের জানান, “মাদক পাচার ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। সমাজের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আরও পড়ুন:  তৈনানীতে তিপ্রামথা ঝড় বিভিন্ন দল ত্যাগ করে ২৩৪ পরিবারের ৭৪১ জন তিপ্রামথা দলে।

তিনি আরও বলেন, মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনও ব্যক্তি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া গাঁজার উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কেও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ উঠলেও এত বড় পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা আগে ঘটেনি। ফলে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগের পাশাপাশি পুলিশের অভিযানের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে একাধিক সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘নেশামুক্ত সমাজ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সোনামুড়ার এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

বর্তমানে পলাতক অভিযুক্তের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চলছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার পেছনে কোনও বৃহৎ মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment