কাঠালিয়া, ত্রিপুরা: বন্যা না হলেও বন্যার জলের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে কাঠালিয়া দক্ষিণ মহেশপুর এলাকার বহু পরিবারকে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অসম্পূর্ণ সরকারি ড্রেন নির্মাণের কারণে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকের বাড়িতে স্থায়ীভাবে জল জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঠালিয়া-বিলোনিয়া সড়কের দু’পাশে সরকারি উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও অধিকাংশ অংশে সেই কাজ সম্পূর্ণ করা হয়নি। কোথাও কোথাও আংশিক ড্রেন নির্মাণ হলেও তার সঠিক সংযোগ ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জল এবং ড্রেনের জল সরাসরি দক্ষিণ মহেশপুর এলাকার বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।
ত্রিপুরা টিভির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এলাকার এক মর্মান্তিক চিত্র। দক্ষিণ মহেশপুরের বাসিন্দা জনু রানি পাল জানান, গত তিন মাস ধরে তিনি নিজের বাড়িতে থাকতে পারছেন না। বাড়ির চারপাশে এবং ভেতরে জল জমে থাকার কারণে বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে গিয়ে তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
জনু রানি পালের অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে প্রতিদিনই অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের।
অন্যদিকে, কাঠালিয়ার বিশিষ্ট ঔষধ ব্যবসায়ী টিটু মজুমদার এবং স্থানীয় বাসিন্দা মিঠুন দে-ও একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা এই সমস্যার শিকার। ড্রেনের অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে বাড়ির উঠান, রান্নাঘর থেকে শুরু করে বিভিন্ন কক্ষে জল ঢুকে পড়ছে। এর ফলে আসবাবপত্র, গৃহস্থালির সামগ্রী, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বহু মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র বর্ষাকাল নয়, সামান্য বৃষ্টিতেও এলাকায় জল জমে থাকে। ফলে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষদের চলাচল করতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে মশার উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
বাসিন্দাদের মতে, সমস্যার মূল কারণ হলো অসম্পূর্ণ ড্রেন নির্মাণ এবং যথাযথ পরিকল্পনার অভাব। যদি পুরো সড়ক জুড়ে সঠিকভাবে ড্রেন নির্মাণ ও সংযোগের কাজ সম্পন্ন করা হতো, তাহলে এই দুর্ভোগ থেকে মানুষ অনেকটাই মুক্তি পেতেন।
এলাকাবাসীরা প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সাধারণ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। অবিলম্বে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও স্থায়ী জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমানে দক্ষিণ মহেশপুরের অসংখ্য পরিবার একরকম জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের একটাই আবেদন— উন্নয়নের নামে শুরু হওয়া কাজ যেন অসম্পূর্ণ না থাকে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির দ্রুত অবসান ঘটাতে প্রশাসন যেন জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
Leave a Comment