---Advertisement---

কলকাতার আকাশে ৩০০০ ড্রোনের বিস্ময়! ভারতমাতা, মোদি, শুভেন্দু, বিবেকানন্দ— দেখুন ১১টি অবিশ্বাস্য ছবি

By Suman Debnath

June 21, 2026 8:01 AM

---Advertisement---


কলকাতা: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগে কলকাতার আকাশে দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। প্রায় ৩০০০ ড্রোনের সাহায্যে রাতের আকাশকে বিশাল ডিজিটাল ক্যানভাসে পরিণত করা হয়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কখনও ফুটে উঠল ভারতের মানচিত্র, কখনও স্বামী বিবেকানন্দ, কখনও ভারতমাতা, আবার কখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অবয়ব। হুগলি নদীর দুই তীরে হাজার হাজার মানুষ এই ড্রোন শো দেখতে ভিড় জমান।

শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বই নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, শিক্ষা এবং বাংলার ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয় এই প্রদর্শনীতে। দক্ষিণেশ্বর মন্দির, মা কালীর ত্রিনয়ন, কল্পতরু বৃক্ষ, যোগ সাধনা এবং পবিত্র ওম চিহ্নও স্থান পায় এই আকাশ প্রদর্শনীতে। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন কলকাতায় এর আগে খুব কমই দেখা গিয়েছে। দেখে নিন সেই সন্ধ্যার সেরা মুহূর্তগুলি।


১/১১

রাতের আকাশে প্রথমেই দর্শকদের চমকে দেয় ভারতের মানচিত্র এবং তার উপরে ভেসে ওঠা পবিত্র ওম চিহ্ন। হিন্দু দর্শন এবং ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক এই ওম। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই প্রতীকের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ড্রোনের সাহায্যে তৈরি ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গকেও বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়। উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই এই দৃশ্য মোবাইলে বন্দি করেন। প্রযুক্তি এবং আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবি পুরো ড্রোন শোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। আকাশের অন্ধকার চিরে জ্বলজ্বল করতে থাকা ওম চিহ্ন যেন ভারতের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।


২/১১

কলকাতার ড্রোন শোতে পদ্মফুল ও পৃথিবীর বুকে ভারত

বিশাল পদ্মফুলের উপর পৃথিবীর প্রতীক এবং সেই পৃথিবীর বুকে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠা ভারত। এই দৃশ্য দেখেই হাততালিতে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পদ্ম জ্ঞান, পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের প্রতীক। সেই পদ্মের উপর পৃথিবীর প্রতিরূপ তৈরি করে বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান এবং গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়। ড্রোনের আলোয় তৈরি এই ভিজ্যুয়াল ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম সৃজনশীল উপস্থাপনা। অনেকেই এই দৃশ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় চিন্তাধারার প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।


৩/১১

কলকাতার আকাশে শুভেন্দু অধিকারী ও পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র

পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রের সামনে নমস্কার ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিকৃতি ফুটে উঠতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনতা। প্রায় ৩০০০ ড্রোনের নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি এই অবয়ব ছিল পুরো অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত অংশ। পশ্চিমবঙ্গের নকশার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিকৃতি যুক্ত করে রাজ্যের উন্নয়ন, প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক পর্বের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও আকাশে তৈরি হওয়া এই দৃশ্য বহু দর্শকের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত মানুষেরা মোবাইল ফোনে মুহূর্তটি ধরে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।


৪/১১

যোগ সাধনা ও কুণ্ডলিনী জাগরণের প্রতীকী ড্রোন চিত্র

প্রাচীন ভারতীয় যোগশাস্ত্রে কুণ্ডলিনী শক্তির উল্লেখ বহুবার পাওয়া যায়। বিশ্বাস করা হয়, যোগ সাধনার মাধ্যমে মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকা শক্তির জাগরণ সম্ভব। সেই দর্শনকেই আধুনিক প্রযুক্তির ভাষায় তুলে ধরা হয় এই বিশেষ ড্রোন চিত্রে। ধ্যান, শক্তি, চক্র এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতীকী রূপ ফুটে ওঠে কলকাতার আকাশে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই এই অংশকে পুরো অনুষ্ঠানের সবচেয়ে অর্থবহ উপস্থাপনা বলে মন্তব্য করেন।


৫/১১

কলকাতার ড্রোন শোতে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতি

পরাধীন ভারতবর্ষের আত্মবিশ্বাসকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিলেন যিনি, সেই স্বামী বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করল কলকাতার এই ঐতিহাসিক ড্রোন শো। রাতের আকাশে যখন তাঁর প্রতিকৃতি ভেসে ওঠে, তখন উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক বিশেষ আবেগের সঞ্চার হয়। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা বিশ্ববাসীর সামনে ভারতীয় দর্শন, বেদান্ত এবং মানবতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। সেই স্মৃতিকেই যেন নতুন করে জীবন্ত করে তুলল ড্রোনের আলো।

আরও পড়ুন:  পশ্চিমবঙ্গ দিবসে মোদীর বার্তা: ‘জনতার স্বপ্নপূরণে কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে’, তারকেশ্বরে বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

কলকাতা শহরের সঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই তিলোত্তমার আকাশে তাঁর অবয়ব ফুটে ওঠার মধ্যে ছিল বিশেষ তাৎপর্য। প্রায় ৩০০০ ড্রোনের নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি এই প্রতিকৃতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রযুক্তির সাহায্যে ইতিহাসের এক মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। আকাশে ভেসে থাকা সেই আলোকময় মুখ যেন উপস্থিত সকলকে মনে করিয়ে দিল— শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং মানবসেবাই ছিল বিবেকানন্দের জীবনের মূল মন্ত্র।


৬/১১

দক্ষিণেশ্বর মন্দির ও মা কালীর ত্রিনয়ন ড্রোন শো

বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির এবং তার উপরে দেবী কালীর ত্রিনয়ন— এই দৃশ্য রাতের আকাশে ফুটে উঠতেই দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। গঙ্গার তীরে অবস্থিত দক্ষিণেশ্বর মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি এবং ইতিহাসেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই মন্দিরের অবয়বকে ড্রোনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে।

এরপরই আকাশে ভেসে ওঠে মা কালীর ত্রিনয়ন। হিন্দু ধর্মে ত্রিনয়ন শক্তি, জ্ঞান এবং সর্বজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই ধর্মীয় প্রতীককে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে উপস্থিত দর্শকরা দীর্ঘক্ষণ ধরে করতালি দিতে থাকেন। অনেকেই মোবাইল ক্যামেরায় এই দৃশ্য ধারণ করেন। কলকাতার আকাশে বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এমন উপস্থাপনা নিঃসন্দেহে ড্রোন শোর অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।


৭/১১

কল্পতরু বৃক্ষ ও খোলা বইয়ের ড্রোন প্রদর্শনী

ড্রোন শোর অন্যতম ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা ছিল কল্পতরু বৃক্ষ এবং খোলা পুস্তকের প্রতীকী চিত্র। ভারতীয় পুরাণে কল্পতরু বৃক্ষকে ইচ্ছাপূরণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে খোলা বই জ্ঞান, শিক্ষা এবং আলোর প্রতীক। এই দুই প্রতীককে একসঙ্গে তুলে ধরে শিক্ষার শক্তি এবং জ্ঞানের গুরুত্বের বার্তা দেওয়া হয়।

ড্রোনের আলোয় তৈরি এই চিত্রটি ছিল অত্যন্ত সৃজনশীল। হাজার হাজার দর্শক যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তখন আলোর বিন্যাসে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে কল্পতরু বৃক্ষের রূপ। তার নীচে খুলে যায় একটি বিশাল বইয়ের প্রতিচ্ছবি। আয়োজকদের মতে, নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা এবং জ্ঞানের গুরুত্ব বোঝানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ উপস্থাপনা করা হয়েছে। উপস্থিত দর্শকদের একাংশের মতে, এটি ছিল পুরো ড্রোন শোর সবচেয়ে অর্থবহ এবং অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্যগুলির মধ্যে একটি।


৮/১১

কলকাতার আকাশে ভারতমাতার প্রতিকৃতি

হাজার হাজার আলোর বিন্যাসে যখন ভারতমাতার প্রতিকৃতি ফুটে ওঠে, তখন গোটা পরিবেশ যেন দেশপ্রেমের আবহে ভরে যায়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে আধুনিক ভারত গঠনের ইতিহাসে ‘ভারতমাতা’ একটি শক্তিশালী প্রতীক। সেই প্রতীককেই প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরা হয় এই ড্রোন শোতে।

প্রায় ৩০০০ ড্রোনের সমন্বয়ে তৈরি এই অবয়ব আকাশে ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে এই দৃশ্য উপভোগ করেন। আয়োজকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগে ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় গৌরবকে তুলে ধরাই ছিল এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারতমাতার এই বিশাল প্রতিকৃতি সেই উদ্দেশ্যকে সফলভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। রাতের আকাশে আলোয় আঁকা এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে অনুষ্ঠানের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হয়ে থাকবে।


৯/১১

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগে কলকাতার আকাশে নরেন্দ্র মোদির প্রতিকৃতি

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগে কলকাতার আকাশে ফুটে উঠল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশাল অবয়ব। প্রায় ৩০০০ ড্রোনের সাহায্যে তৈরি এই প্রতিকৃতি ছিল পুরো অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে যোগকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভূমিকা বারবার আলোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘে তাঁর উদ্যোগেই ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল।

আরও পড়ুন:  আবহাওয়ার খবর: জামাই ষষ্ঠীতে লাল সতর্কতা! দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

সেই কারণেই যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ড্রোন শোতে তাঁর প্রতিকৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আকাশে ধীরে ধীরে যখন মোদির মুখাবয়ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। উপস্থিত বহু মানুষ মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করেন। প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক যোগ আন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতেই এই বিশেষ উপস্থাপনা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কলকাতার আকাশে এমন নিখুঁত ড্রোন প্রতিকৃতি তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে প্রযুক্তিগত দক্ষতারও এক অনন্য উদাহরণ।


১০/১১

৩০০০ ড্রোনে তৈরি বিশাল পদ্মফুল কলকাতার আকাশে

আকাশজুড়ে ফুটে ওঠা বিশাল পদ্মফুল ছিল ড্রোন শোর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত। শত শত নয়, প্রায় ৩০০০ ড্রোনের সমন্বয়ে তৈরি এই বিশাল আকৃতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পদ্ম পবিত্রতা, সৌন্দর্য, জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সেই পদ্মকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয় এই বিশেষ আলোকচিত্র।

ড্রোনগুলির নিখুঁত অবস্থান পরিবর্তনের ফলে আকাশে যেন একটি জীবন্ত পদ্মফুল ফুটে উঠেছিল। অনেক দর্শকের মতে, পুরো অনুষ্ঠানের সবচেয়ে সুন্দর এবং চোখধাঁধানো দৃশ্য ছিল এটি। আলোর বিন্যাস, আকারের নিখুঁততা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা এই উপস্থাপনাকে অন্য মাত্রা দেয়। রাতের অন্ধকার আকাশে হাজারো আলোর সমন্বয়ে তৈরি পদ্মফুল যেন ভারতীয় ঐতিহ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য মিলনস্থল হয়ে ওঠে।


১১/১১

হাওড়া ব্রিজ ও দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন ড্রোন শো

বাংলার গর্ব হাওড়া ব্রিজ এবং তার উপরে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চোখ— ড্রোন শোর শেষ পর্বে এই দৃশ্য যেন আবেগের অন্য মাত্রা এনে দেয়। কলকাতার পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হাওড়া ব্রিজকে ঘিরে তৈরি এই আলোকচিত্র দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যা শক্তি, সুরক্ষা এবং শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

দুর্গাপুজোর শহর কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরতেই এই বিশেষ উপস্থাপনা করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। রাতের আকাশে ভেসে ওঠা এই দৃশ্য উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ মুগ্ধ করে রাখে। বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে এই ছবিকে ড্রোন শোর সেরা মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আবেগকে এক ফ্রেমে তুলে ধরার অসাধারণ উদাহরণ হয়ে থাকবে এই দৃশ্য।


কলকাতার আকাশে প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধন

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ড্রোন শো শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত প্রদর্শনী ছিল না। এটি ছিল ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, ইতিহাস, জাতীয়তাবোধ এবং বাংলার ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস। ভারতের মানচিত্র থেকে ওম, স্বামী বিবেকানন্দ থেকে ভারতমাতা, দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে হাওড়া ব্রিজ— প্রতিটি উপস্থাপনার মধ্যেই ছিল একটি নির্দিষ্ট বার্তা।

প্রায় ৩০০০ ড্রোনের সাহায্যে কলকাতার আকাশে যে দৃশ্য তৈরি হয়েছে, তা শুধু দর্শকদের মুগ্ধ করেনি, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, এমন অনুষ্ঠান শুধু বিনোদন নয়, মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগে এই ড্রোন শো নিঃসন্দেহে কলকাতার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে জায়গা করে নেবে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment