সোনামুড়া, ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সোনামুড়া কবি নজরুল মহাবিদ্যালয়ে এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) ইউনিটের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিসি ও এনএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ৫ জুন পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সোনামুড়া কবি নজরুল মহাবিদ্যালয়ের এনসিসি ও এনএসএস ইউনিট এদিন বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরে। কলেজ চত্বরে রোপণ করা হয় একাধিক ফলদ, ঔষধি ও ছায়াদানকারী গাছের চারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব উষ্ণায়ন, বনভূমি ধ্বংস এবং পরিবেশ দূষণ মানবসভ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ কেবল একটি সামাজিক কার্যক্রম নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাঁরা শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এনসিসি ও এনএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে, বায়ুদূষণ কমায়, জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের উচিত বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ করা এবং তার যথাযথ পরিচর্যা করা।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে কলেজের কনফারেন্স হলে একটি পরিবেশবিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার কাজ শুধু সরকার বা কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সবুজ ও সুস্থ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনএসএস প্রোগ্রাম অফিসার ড. জহরলাল দেববর্মা, সহযোগী অধ্যাপক ড. অমিতাভ সাহা, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুসলেম মিয়া এবং ড. সুকামল কান্তি ঘোষ। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম যদি পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এবং বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করে, তবে আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, জল সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার মতো উদ্যোগগুলোকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অনুষ্ঠানের শেষে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে সকল অংশগ্রহণকারী একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
Leave a Comment