ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে । লিপুলেখ গিরিপথ ইস্যুতে চীন ও ব্রিটেনের সাথে আলোচনা করতে চেয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। একইসাথে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরাও ভারতের কিছুটা ভূখণ্ড দখল করে রেখেছি’—এমন বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
এ ঘটনার পরপরই নয়াদিল্লি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার স্পষ্ট করে বলেন, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ভারত গ্রহণ করবে না।
হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় উত্তরাখণ্ড, নেপাল এবং চিনের সীমান্তবর্তী এলাকার একটি সরু গিরিপথ হলো লিপুলেখ। এই পথ দিয়েই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা করেন তীর্থযাত্রীরা। তাঁদের সুবিধার জন্যই ২০২০ সালে ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত একটি সড়কের উদ্বোধন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তখন থেকে বিতর্কের সূত্রপাত। লিপুলেখকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে বসে নেপাল। পাল্টা নয়াদিল্লি জানিয়ে দেয়, গোটা অঞ্চলটাই দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাখণ্ডের অংশ। কোনও মতেই নেপালের নয়।
এ দিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও সাফ জানিয়ে দেন, গোটা বিষয়টির উপরে নয়াদিল্লি নজর রাখছে। সঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের বিদেশ মন্ত্রকের জারি করা বিবৃতি আমরা দেখেছি।’ এর পরেই চিন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার দাবি উড়িয়ে দেন রণধীর। তাঁর কথায়, ‘ভারত ও নেপালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। বিষয়টা সকলের কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।’
ভারত-নেপাল সীমান্তের ৯৮ শতাংশই চিহ্নিত বলে জানান তিনি। তবে কিছু অংশ এখনও অমীমাংশিত রয়েছে। রণধীর বলেন, ‘গণ্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে কিছু সমস্যা হয়েছে। আবার সীমান্তের যে সব অংশ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে জমি দখল এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠেছে। এই ধরনের সমস্যার সমাধানে যৌথ ভাবে কাজ চলছে।’
তবে ব্রিটিশ আমল থেকেই লিপুলেখ নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তবে শুধু লিপুলেখ নয়, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধুরার জমি নিয়েও বিবাদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বলেন্দ্র জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। সংসদে বক্তৃতার সময়ে তিনি বলেন, ‘শুধু ভারত আর চিন নয়, ব্রিটেনের সঙ্গেও বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ তাদের সময় থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। কূটনৈতিক পথেই এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।’
Leave a Comment