‘ভিআইপি-এলআইপির জন্য আলাদা লাইন নয়’, চোরবাগানের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সিদ্ধান্ত

By Suman Debnath

October 18, 2026 2:40 PM

‘ভিআইপি-এলআইপির জন্য আলাদা লাইন নয়’, চোরবাগানের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সিদ্ধান্ত


চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় মৃত্যুমিছিল নিয়ে গোটা শহরে চর্চা শুরু হয়েছে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার। কেউ পুজো কমিটির দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ অভিযোগ করছেন পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে এবার প্রায় সমস্ত বড় পুজোতেই ভিড় নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভিআইপি গেটও তুলে দেওয়া হবে। রবিবার ভবানী ভবনে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরে এই কথাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চোরবাগানের ঘটনায় যে অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হবে সেটা থেকে কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভাকে বাদ রাখা হয়েছে। কারণ তাদের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে বলে জানান তিনি।

এখন চোরবাগানের দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুমিছিল নিয়ে সবটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে চোরবাগানের ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছে লালবাজার। ওই এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। এই আবহে রবিবার বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যা করার করা হচ্ছে। আগামী ২৬ তারিখ রাজ্যের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান রয়েছে। ওই অনুষ্ঠান একেবারে আড়ম্বরবর্জিত হবে। সমস্ত কমিটিকে আগামী ২৬ তারিখ ডাকা হচ্ছে। সেখানে ১৯ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে এবং আহতদের ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:  নিট আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের প্রতিবাদ’—হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলায় এবিভিপির মিছিল, সরব ছাত্র সংগঠন

ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের তালিকায় আছেন পুজো কমিটির সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও কয়েকজন। এদিন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই বৈঠকে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। তবে এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘স্বরাষ্ট্র, ডিজি, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন কমিটিতে। নেতৃত্ব দেবেন কলকাতা হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি। মুখ‍্যসচিব লিখিত অনুরোধ করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে। পুজো উদ‍্যোক্তা, স্থানীয় পুলিশের একাংশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু সাময়িকভাবে নিযুক্ত হোমগার্ডদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁরা গত দু’বছর ধরে পুজোর সময়ে এই দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের পক্ষ থেকে।’

আরও পড়ুন:  দলের নেতাদের দিকে এবারে নিশানা দাগলেন কল্যাণ

তাছাড়া প্রায় ২৫ ফুট চওড়া রাস্তার ১৫ ফুটই দখল করে রেখেছিল স্টল। তাই বেরোনোর জন্য অবশিষ্ট ছিল মাত্র ১০ ফুট রাস্তা। এতটা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কীভাবে স্টল বসানোর জন্য দখল করা হল সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ। রবিবার একের পর এক বৈঠক করার পর মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া, ‘একটা দড়ি দিয়ে লাইন ভাগ করে রাখা ছিল। তারা হাতে ধরে ছিল সেই দড়ি। বৃষ্টির সময়ে সেই দড়ি তারা ছেড়ে দেয়। কারা সেখানে ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে কিছুটা থেকেই এই টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে। শহরের সমস্ত পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। অন স্পট সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রিত দর্শনার্থী হবে। ভিআইপি-এলআইপির জন্য আলাদা লাইন নয়। আমি জনগণকে বলব, মনের মধ্যে সহানুভূতি রেখেই মা দুর্গার দর্শন করুন। শাস্ত্র-পঞ্জিকা মতে যে কাজগুলি আছে তা করুন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আগামী দু’তিনদিন এই শোকার্ত পরিবারগুলির পাশে থাকব।’

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment