পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে নাসার বিশাল অকেজো উপগ্রহ, ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়তে পারে ভারতে

By Suman Debnath

November 3, 2026 8:20 PM

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে নাসার বিশাল অকেজো উপগ্রহ, ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়তে পারে ভারতে


দীর্ঘ প্রায় ২২ বছরের সফলভাবে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানোর পর এবার পৃথিবীর বুকেই আছড়ে পড়তে চলেছে নাসার (NASA) অকেজো হয়ে পড়া নীল গেহরালেস সুইফট অবজারভেটরি (Neil Gehrels Swift Observatory)। মহাকাশ থেকে এই উপগ্রহটির (যা আদতে একটি অতিকায় টেলিস্কোপ) নিয়ন্ত্রনহীন পতনের (Uncontrolled Re-entry) সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ অঞ্চলে (Debris Zone) রয়েছে দক্ষিণ ভারত (Southern India)। আর এই সম্ভাব্য বিপদের তালিকায় রয়েছে ভারতের দুই মেগাসিটি মুম্বই (Mumbai) এবং হায়দরাবাদ (Hyderabad)। স্বভাবতই এই মহাজাগতিক দুর্ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

কেন ধেয়ে আসছে এই স্যাটেলাইট?

২০০৪ সালের ২০ নভেম্বর মূলত মহাজাগতিক বিস্ফোরণ বা গামা-রে বার্স্ট (Gamma-ray bursts) পর্যবেক্ষণের জন্য এই টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মাত্র দু’বছরের আয়ু নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, অবাক করে দিয়ে এটি ২২ বছর ধরে কাজ করে গিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে এটি ২,০০০-এর বেশি গামা-রে বার্স্ট এবং প্রায় ১,৪০০টি সুপারনোভা (Supernovae) আবিষ্কার করেছে। কিন্তু সম্প্রতি সৌরজগতের আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রসার ঘটে, ফলে ড্র্যাগ বা ঘর্ষণ বেড়ে গিয়ে টেলিস্কোপটির উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে। নাসার তরফ থেকে ক্যাটালিস্ট স্পেস (Katalyst Space) সংস্থার মাধ্যমে ‘লিঙ্ক’ (Link) নামের একটি রোবোটিক মহাকাশযান পাঠিয়ে এটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গত জুলাই মাসে সেই উদ্ধারকাজ ব্যর্থ হয়, কারণ রোবটটি টেলিস্কোপের ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটারের থেকে বেশি কাছে পৌঁছতে পারেনি। এরপর অক্টোবর মাসের শেষের দিকে বাধ্য হয়ে বিজ্ঞানীরা এটির সিস্টেম পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (Pennsylvania State University) জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং এই মিশনের অন্যতম পরিচালক জন নউসেক (John Nousek) জানিয়েছেন, মহাকাশের লো-আর্থ অরবিটে যা যায়, তাকে একদিন না একদিন পৃথিবীতে ফিরতেই হয়, আর সেই সমাপ্তিটা হয় অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক। যেমনটি হতে চলেছে এই অবজারভেটরির ক্ষেত্রে।

ভারত বিপদের মুখে? নজর রাখছে ইসরো

আরও পড়ুন:  বাহামাগামী বিমান ভেঙে পড়ল ফ্লোরিডায়, মৃত্য ৯ জনের! রাস্তার পাশে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত

মার্কিন স্পেস ফোর্সের (US Space Force) ট্র্যাকিং অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। পতনশীল এই স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য গতিপথে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রচণ্ড ঘর্ষণে এর বেশিরভাগ অংশই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে টেলিস্কোপের ভেতরের টাংস্টেন উপাদান (Tungsten components) এবং আয়নার বেশ কিছু অংশ এই প্রচণ্ড তাপ সহ্য করে টিকে যেতে পারে। এই বেঁচে যাওয়া অবশিষ্টাংশ মূলত সমুদ্রের বুকে বা জনবসতিহীন এলাকাতেই পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ভারতের নিজস্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থাও (ISRO) এই পতনশীল বস্তুটির ওপর কড়া নজর রাখছে। শ্রীহরিকোটায় (Sriharikota) অবস্থিত মাল্টি-অবজেক্ট ট্র্যাকিং রাডারের (MOTR) সাহায্যে ইসরো এই ধরনের মহাকাশ বর্জ্যের শেষ মুহূর্তের গতিপথ নির্ভুলভাবে ট্র্যাক করে চলেছে। তবে শেষমেশ কী হবে, তা সময়ই বলবে।

আরও পড়ুন:  শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো): হাজার মাইল দূরে আমস্টারডামে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে প্রবাসী বাঙালিরা

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment