ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করছেন না সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, দিলেন যুক্তি

By Suman Debnath

October 12, 2026 11:45 AM

ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করছেন না সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, দিলেন যুক্তি


সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। ভোট চুরি, এসআইআর বন্ধ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ-এই তিনটি বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে প্রধান বিচারপতির অফিস থেকে রবিবার বেশি রাতেই ইমেলে জানিয়ে দেওয়া হল, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তিনি দেখা করবেন না। প্রধান বিচারপতি সঙ্গে দেখা না হলেও সুপ্রিম কোর্ট অভিযান থেকে সরে আসছে না ইন্ডিয়া জোট। বিরোধী শিবিরের আবেদনের জবাবে চারটি যুক্তি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি বলে সূত্রের খবর।

এদিকে সোমবার দুপুরে কনট প্লেস-বারাখাম্বা রোড সংযোগস্থলে সমবেত হবেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। সেখানে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীদের নেতৃত্বে পদযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়া গেট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই পদযাত্রার নাম-‘দিল্লি চলো, মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’। প্রধান বিচারপতি দেখা না করলেও এই অভিযান হবে বলে ইন্ডিয়া জোট সূত্রে খবর। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘এই অভিযানের উদ্দেশ্য প্রেম, ভ্রাতৃত্ব এবং দেশপ্রেম।’ তবে যে চারটি যুক্তি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি তার মধ্যে এক, এই সমস্ত অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। তাই আদালতের বাইরে সেটা নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:  ‘ভোট চুরি, সরকার চুরির পর এখন দল চুরি’, বিজেপি-নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে মমতার পাশে রাহুল

অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের অভিযান ঠেকাতে দিল্লিকে নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলেছে পুলিশ। সেন্ট্রাল দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং সিআরপিএফ। সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বন্ধ দিল্লির ৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন। আর বিরোধীদের মিছিল ঠেকাতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে দিল্লিতে। এই আবহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দেখা না করার যুক্তি দুই, এই বিষয়ক অভিযোগ বিবেচনা করা বা তার ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করা আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের আওতায় নেই।

তাছাড়া আরও দুটি যুক্তি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিন, দেশের সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং অন্যান্য ধারা অনুযায়ী, আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা করার ক্ষমতা আছে। তাই সোমবার যদি এই অভিযোগগুলি নিয়ে কোনও আবেদন বা মামলা করা হয় সেটা পরের দিন সুপ্রিম কোর্টের তালিকাভুক্ত মামলাগুলির পরবর্তী শুনানির দিন তা গ্রহণ করা হবে। চার, দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট দায়বদ্ধ। তাই নাগরিকদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা আছে। এই যুক্তিগুলির বাইরে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমি চিঠি পেয়েছি। রাতেই তার জবাব দিয়েছি। কেন দেখা করতে পারব না, কিছু কারণ জানিয়েছি। চিঠিতে কী লিখেছি সেটা বলব না। ওঁদের জিজ্ঞেস করে নিন। সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা আছে। সাধারণ মানুষ হোন বা নির্বাচিত সদস্য, যে কেউ যে কোনও আবেদন নিয়ে আমাদের কাছে আসতে পারেন। ভারতের যে কোনও নাগরিকের অধিকার আছে আদালতে আসার। আইন অনুযায়ী আমরা তাঁদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব এবং অধিকার সুনিশ্চিত করব।’

আরও পড়ুন:  'ওরা নিজদের বাদশা ভেবে ফেলেছিল', ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের পরে প্রতিক্রিয়া দীপকের

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment