---Advertisement---

বকেয়া DA নিয়ে বড় সুখবর! স্কুলশিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরকর্মীদের পাওনা মেটাতে নবান্নের তৎপরতা শুরু

By Suman Debnath

August 6, 2026 9:20 AM

বকেয়া DA নিয়ে বড় সুখবর! স্কুলশিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরকর্মীদের পাওনা মেটাতে নবান্নের তৎপরতা শুরু

---Advertisement---


সরকারি কর্মীদের একাংশ ইতিমধ্যেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) টাকা পেয়েছেন। কিন্তু সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (Grant-in-Aid) স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা এখনও সেই অর্থের অপেক্ষায়। এবার তাঁদের জন্যও সুখবর। নবান্ন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে দীর্ঘদিনের বকেয়া DA মেটানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দপ্তরকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বকেয়া DA ইস্যুতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট সরকারি কর্মীদের পক্ষেই রায় দেয়। যদিও তৎকালীন তৃণমূল (Trinamool Congress) সরকার প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল। পরে ১৫ মার্চ, বিধানসভা ভোট ঘোষণার ঠিক আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ মার্চ মাসেই দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী সরকারি কর্মীদের একাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে এবং পেনশনভোগীরা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেলেও, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিতই ছিলেন।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিকবার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও এতদিন কোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এবার সেই জট কাটতে চলেছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আইটি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আপাতত বেতন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পোর্টালগুলিতে অন্য কোনও বকেয়া বিল জমা না নিতে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শুধুমাত্র বকেয়া DA-র বিল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘দম থাকলে ব্রিগেড ভরান’, একুশে জুলাইয়ের সভা ঘিরে কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পান না, অর্থাৎ অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধিবদ্ধ বোর্ড এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের কর্মীদের ROPA 2009 অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোই এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যে সম্প্রতি অর্থ দপ্তরের আধিকারিকরা বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছেন।

বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি দপ্তরকে নিজেদের বেতন সংক্রান্ত পোর্টালে বকেয়া বিল জমা দেওয়ার জন্য আলাদা অপশন চালু রাখতে হবে। উদাহরণ হিসেবে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে iOSMS পোর্টালে এই ব্যবস্থা তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হলে অর্থ দপ্তর পরবর্তী নির্দেশ জারি করবে এবং তারপরই সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বকেয়া বিল জমা দিতে পারবেন।

প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, এই প্রক্রিয়া ROPA 2019 অনুযায়ী সম্প্রতি ঘোষিত ২০ শতাংশ অতিরিক্ত DA-র সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ROPA 2009 অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর জন্যই এই পৃথক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কারণে প্রতিটি দপ্তরের নোডাল অফিসার এবং আইটি কর্মীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  কাটমানির থাবা এবার মর্গে! মৃতদেহ রাখতে ‘দু’হাজার’ দাবি, পুলিশের হুঁশিয়ারিতে পিছু হাসপাতালকর্মী

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই অর্থ দপ্তর ROPA 2019 অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০ শতাংশ DA-র সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে প্রাপ্ত ১৮ শতাংশের সঙ্গে মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের মোট ৩৮ শতাংশ DA মিলবে। এই সুবিধা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও পাবেন এবং অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

এদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি-র পক্ষ থেকে অনিমেষ হালদার বলেন, বিভিন্ন সূত্রে তাঁরা জেনেছেন যে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ROPA 2009 অনুযায়ী বকেয়া DA মেটানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তবে তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আর দেরি না করে রাজ্য সরকার যেন দ্রুত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment