বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে গিয়েছে। তারপর ঘাসফুল শিবির ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলেন প্রতীক উর রহমান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই এসেছিলেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে জোরদার প্রচারও করেছিলেন। কিন্তু এতকিছুর পরও হারের মুখ দেখতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। তবে ৪ মে তারিখের পর দলের কোনও কিছুতেই আর দেখা যাচ্ছিল না প্রতীক উর রহমানকে। তাহলে কি মোহভঙ্গ? এরপরই দেখা যায়, পুরনো পেশায় ফিরেছেন তিনি। ঝান্ডা ছেড়ে এবার গায়ে কালো কোট পরে প্র্যাকটিস করছেন আদালতে।
এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, রাজনীতি ছাড়ছেন প্রতীক উর? মঙ্গলবার সামনে এল আইনজীবী প্রতীক উরের ছবি। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ নম্বর রুমে, একটি মামলায় আইনজীবী হিসেবে প্রতীক উরকে দেখা যায়। তাঁর পাশে মামলা চলাকালীন ছিলেন বাম ঘনিষ্ঠ আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়কেও। তখন থেকেই শুরু হয় নয়া গুঞ্জন। যদিও এদিন সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতীক উর রহমান বলেন, ‘সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আমার সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে কোর্টরুমে ছিলেন। ওই কোর্টরুমেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট আইনজীবী সূর্যনীলও। কই সেই ছবি তো ভাইরাল হলো না! আদালতের মধ্যে আমরা প্রত্যেকেই আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই নিয়ে কেউ বিতর্ক করলে কিছু বলার নেই।’
প্রতীক উর রহমান ২০১৬ সালে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিলের পরীক্ষাও পাশ করেন পরের বছর। তবে তখন বুকে বিপ্লব নিয়ে সিপিএমের হোলটাইমার ছিলেন তিনি। এরপর সেই দলের সঙ্গে মতপার্থক্য হওয়ায় চলে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসে। কিন্তু দল তো এখন ক্ষমতায় নেই। এবার তৃণমূলে থেকেই আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন প্রতীক উর। কিন্তু এতদিন পর হঠাৎ এই পথে কেন? এই প্রশ্নে প্রতীক উরের জবাব, ‘নির্বাচনের পর থেকে পাকাপাকিভাবে হাইকোর্টে এসেছি। রাজনীতিও করছি। তৃণমূল ছেড়ে এখনও অন্য কোথাও যাইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়, দেখাও হয়। সেটাই তো স্বাভাবিক।’
তাছাড়া মাঝে আসামেও গিয়েছিলেন প্রতীক উর মামলা লড়তে। আইনজীবী হিসাবে কি এবার নিজেকে তুলে ধরতে চাইছেন? এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রতীক উর এদিন কলকাতা হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বিজেপি যেভাবে ফ্যাসিবাদি কায়দায় সরকার চালাচ্ছে, তাতে রাস্তার লড়াই যেমন প্রয়োজন তেমন তার থেকেও বেশি প্রয়োজন আইনি লড়াই। সেই তাগিদ থেকেই আইনজীবী পেশায় এসেছি।’
Leave a Comment