ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় প্রয়োজনীয় নথি সময়মতো না পৌঁছানো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে রিপোর্ট চেয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে নথি বিনিময়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নজরবন্দি ব্যুরো: ভবানীপুর (Bhawanipore) বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত বহুচর্চিত মামলায় আবারও বিলম্বের অভিযোগ সামনে এল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাতে না পৌঁছানোয় মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, কেন সময়মতো নথি সরবরাহ করা গেল না। এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার আবেদন জানিয়ে দায়ের হওয়া এই মামলার শুনানি চলছিল মঙ্গলবার। সেই সময় তাঁর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) আদালতকে জানান, মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও হাতে না আসায় কার্যকরভাবে শুনানি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শুনানির সময় আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, নির্বাচনী মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা কার্যত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথি সময়মতো না মিললে মামলার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষের হয়ে সওয়াল করেন শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আইনজীবী জয়দীপ কর। তিনি আদালতকে জানান, পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইভিএম (EVM) এবং মামলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাই মামলার অগ্রগতিতে কোনও প্রশাসনিক বাধা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক পক্ষকে নিজেদের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথির কপি অপর পক্ষকে দিতে হবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে— এমন মর্মে হলফনামাও আদালতে জমা দিতে হবে।
একই সঙ্গে আদালত রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নির্ধারিত নথিপত্র যথাসময়ে পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে। পাশাপাশি কেন নথি সরবরাহে বিলম্ব হল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও আদালতে পেশ করতে হবে। ফলে ভবানীপুর ভোট মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
Leave a Comment