রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বাড়ছে উত্তাপ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর প্রতিষ্ঠা দিবসকে ঘিরে এবার মুখোমুখি হতে চলেছে তৃণমূলের দুই শিবির। আগামী ২৮ আগস্ট ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির কলকাতা পুলিশের কাছে কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর। একই দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরও নিজেদের কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে একই দিনে আলাদা কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে।
সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন জমা দিয়েছে। নির্দিষ্ট একটি ভেন্যুর পরিবর্তে একাধিক সম্ভাব্য স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন কোন জায়গার জন্য আবেদন করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
গত বছর পর্যন্ত কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির সামনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর এবার একই কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের পৃথক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও এ বছর মেয়ো রোড এলাকায় প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির জানিয়েছে, তাদের কাছে স্থান নয়, আইন মেনে কর্মসূচি পালন করাই অগ্রাধিকার। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কলকাতা পুলিশের অনুমতির উপর নির্ভর করবে।
এদিকে ২৮ আগস্টের কর্মসূচিকে সফল করতে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন ঋতব্রত শিবিরের নেতারা। কলকাতায় জেলা প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ থেকে বেশি সংখ্যক ছাত্র-যুবকে কর্মসূচিতে আনার লক্ষ্যে আলাদা সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব জেলার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নিজেদের কর্মসূচি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। দলের আইনজীবী নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্র-যুবদের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদের মুখ হিসেবে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মানুষ দেখছেন।
তবে এই রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। একই দিনে দুই পক্ষের কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে এখনও কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত কোথায় এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হবে, তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে।
Leave a Comment