মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলল নতুন ঘটনায়। ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে বুধবার রাতে আহওয়াজের একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালে হামলার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরানের একাধিক বন্দর শহরে বিস্ফোরণের ঘটনাও সামনে এসেছে। যদিও হাসপাতাল হামলায় হতাহতের বিষয়ে এখনও কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবু ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আহওয়াজ শহরের শহিদ বাঘাই শিশু ক্যানসার হাসপাতালে বুধবার গভীর রাতে পরপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। হামলার সময় হাসপাতালে বহু শিশু চিকিৎসাধীন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্রুত রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
শুধু আহওয়াজেই নয়, একই রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক, রাস্ক সিটি ও খন্দব-সহ ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। তেহরানের দাবি, এসব হামলায় একটি সামরিক ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ঘটনায় সাতজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যানও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং মার্কিন অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল ইরানি বাহিনী। সেই প্রেক্ষিতেই হরমুজ সংলগ্ন কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। একই সঙ্গে একটি ইরানি ট্যাঙ্কার ধ্বংস করার কথাও তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC)। তাদের দাবি, মার্কিন সামরিক চাপকে তারা ভয় পায় না। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।
এই ঘটনার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে মিনাবের সেই মর্মান্তিক হামলার স্মৃতি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারা তায়েব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই ঘটনায় ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে তেহরানের দাবি, যাদের অধিকাংশই ছিল ছাত্রী। হামলার দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে স্পষ্ট কোনও স্বীকৃতি না মিললেও, ইরানের পক্ষ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের উপর নতুন চাপ তৈরি করছে। হাসপাতাল ও বেসামরিক পরিকাঠামোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং পাল্টা সামরিক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের।
Leave a Comment