পাকিস্তানে চিন-তুরস্কের সামরিক বিমানের আনাগোনা, নজর ভারতের 

By kolamkotha.com

August 22, 2026 11:30 AM


পাকিস্তানের আকাশসীমায় গত কয়েকদিনে চিন ও তুরস্কের সামরিক পরিবহণ বিমানের আনাগোনা বেড়েই চলেছে। এবার এই ঘটনায় নতুন করে নজরদারি শুরু করেছে ভারত। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে চিন ও তুরস্কের ভারী পণ্যবাহী সামরিক বিমান যাতায়াত করেছে। ওই বিমানগুলিতে ড্রোন-সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি। তবে ঠিক কী সরঞ্জাম পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডির কাছে নূর খান বায়ুসেনা ঘাঁটি এবং করাচির মাসরুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে চিনের সামরিক বিমান নামতে দেখা গিয়েছে। একই সময়ে তুরস্কেরও কয়েকটি সামরিক পরিবহণ বিমান পাক ঘাঁটিতে যাতায়াত করেছে বলে দাবি নিরাপত্তা সংস্থার। এত অল্প সময়ে একাধিক ভারী বিমানের এই চলাচলকে স্বাভাবিক সামরিক যাতায়াতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  এফএটিএফ বৈঠকে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে তৎপর ভারত, নিশানায় মাসুদ আজহার ও জইশ-ই-মহম্মদ

সামরিক সরঞ্জামের জন্য পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই চিনের উপর নির্ভরশীল। যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন-সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম চিন থেকে নিয়েছে ইসলামাবাদ। গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও কাছাকাছি এসেছে। ওই সংঘাতের সময় পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও চিন জানিয়েছিল।

অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তুরস্কও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। বিশেষ করে ড্রোন, নৌ-প্রযুক্তি এবং মহাকাশক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বেড়েছে। গত মে মাসে পাকিস্তানের বায়ুসেনা প্রধান জাহির আহমেদ বাবর সিধু তুরস্ক সফর করে সে দেশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি নিয়ে বৈঠক করেছিলেন।

এরই মধ্যে চলতি মাসের ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের উপর হামলা হিসেবেই গণ্য হবে। এই চুক্তির পরেই চিন ও তুরস্কের সামরিক বিমানের পাকিস্তানে বাড়তি যাতায়াতকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের একাংশ।

আরও পড়ুন:  ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পূর্ব জাপান, জখম অন্তত ৩০

আরও পড়ুন: তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপের ঘোষণা ট্রাম্পের

তবে এই বিমানগুলিতে অস্ত্র বা নির্দিষ্ট কোনও সামরিক সরঞ্জাম-সামগ্রী পাঠানো হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে সাম্প্রতিক তৎপরতাকে ঘিরে জল্পনা বাড়লেও তার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিষয়টির উপর নজর রাখছে বলে খবর।

No comments to show.

Leave a Comment